খামার মালিক আবু সুফিয়ান জানান, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে হঠাৎ করে কোয়েল পাখিগুলো অসুস্থ হতে শুরু করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একের পর এক পাখি মারা যেতে থাকে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত এই মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত থাকে এবং প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পাখি মারা যায়। সরেজমিনে রোববার বিকেলে খামারটিতে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে মৃত পাখির স্তূপ পড়ে আছে এবং এক শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় প্রথমে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খামার করলেও পরে কোয়েল পালনে ঝুঁকেছিলেন আবু সুফিয়ান। বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৮ হাজার কোয়েল পাখির বাচ্চা দিয়ে খামারটি সাজিয়েছিলেন।
পাখিগুলো ডিম দেওয়া শুরু করায় প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা আয় হতো। এই আয় দিয়েই তার পরিবার এবং খামারে কর্মরত তিনজন শ্রমিকের জীবিকা চলত। আবু সুফিয়ান বলেন, ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল ডিম বিক্রির টাকা দিয়ে। কিন্তু হঠাৎ এই বিপর্যয় আমার সব শেষ করে দিল। এখন আমি কীভাবে ঋণের টাকা শোধ করব আর সংসার চালাব, তা ভেবে পাচ্ছি না।'
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে আগুনে পুড়ে ২৫০০ মুরগির বাচ্চার মৃত্যু
খামার মালিকের দাবি, অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে পাখিগুলো প্রথমে ঝিমিয়ে পড়ে এবং দ্রুত মারা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। খামারে বর্তমানে জীবিত থাকা বাকি পাখিগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলেক চান সজীব এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে সরকারিভাবে সহযোগিতা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সিরাজদিখান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শবনম সুলতানা বলেন, 'প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছি। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে। একইসাথে খামারে বর্তমানে জীবিত কোয়েলগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।'

১ সপ্তাহে আগে
৩






Bengali (BD) ·
English (US) ·