৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার উপস্থিতি, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

১ সপ্তাহে আগে
দেশের ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই শিশুদের বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকায় বসবাস করছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষায় সিসা-নির্ভর শিল্প কারখানাগুলোকে জনবহুল এলাকা থেকে সরানোর পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

নবজাতক শিশু জানে না, তার জন্য পৃথিবীতে শতভাগ বিশুদ্ধ বাতাস নেই। তার ওপর যদি জন্ম হয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়, তবে অভিভাবকদের জন্য উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ঢাকায় বিষাক্ত বাতাসের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। বিশ্বজুড়ে সীসা দূষণে আক্রান্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। ঢাকায় সীসার উপস্থিতি মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে।

 

সম্প্রতি আইসিডিডিআরবি ৫০০ শিশুর ওপর দুই বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছে। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সীসা পাওয়া গেছে। যদিও রক্তে সীসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) শিশুদের প্রতি লিটার রক্তে ৩৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি সীসা উপস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করে।

 

আরও পড়ুন: বস্তিতে বসবাসকারী ও শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশ খর্বাকৃতির: আইসিডিডিআরবি

 

আইসিডিডিআরবি জানায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০০ শিশুর মধ্যে অর্ধেকের রক্তে প্রতি লিটারে অন্তত ৬৭ মাইক্রোগ্রাম সীসা পাওয়া গেছে। এই বিষাক্ত ধাতু শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। আইসিডিডিআরবির সহকারী গবেষক ডা. জেসমিন সুলতানা বলেন, গবেষণায় অংশ নেয়া প্রতিটি শিশুর শরীরেই মাত্রাতিরিক্ত সীসা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিশুর শরীরে সীসার মাত্রা অতিরিক্তভাবে বিদ্যমান। ছোট ছোট কারখানার ভেতরে সীমিত জায়গায় কাজ করার কারণে আশপাশের মাটিতে প্রচুর সীসা ছড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে ঢাকার দক্ষিণে এর উপস্থিতি উত্তরের তুলনায় অনেক বেশি।

 

গবেষণায় আরও দেখা যায়, সীসা-নির্ভর শিল্পস্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অপরদিকে, এসব শিল্পকারখানা থেকে পাঁচ কিলোমিটারের বেশি দূরে বসবাসকারী শিশুরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে।  তাই এই বিপদ থেকে বাঁচতে সীসা-নির্ভর শিল্পস্থাপনা ও কারখানাগুলো লোকালয় থেকে সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ গবেষকদের।

 

আইসিডিডিআরবির প্রকল্প সমন্বয়ক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এখন বিশ্বজুড়ে ট্রান্সজিশন টু নিউ টেকনোলজির প্রসঙ্গ উঠে আসছে। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, নিকেল এবং জিংক ব্যাটারির মতো প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হচ্ছে। সীসার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে হলে নতুন এই প্রযুক্তিগুলো গ্রহণ করতেই হবে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীসার মতো অদৃশ্য নীরব ঘাতক সব বয়সের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর, তবে শিশুর জন্মের পরবর্তী এক হাজার দিনের মধ্যে এর উপস্থিতি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এই কারণে শিশুরা ভবিষ্যতে নানা ধরনের স্বাস্থ্য ও বিকাশজনিত সমস্যা নিয়ে বড় হতে পারে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন