ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের বর্তমানে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ গৃহস্থালীর জিনিসপত্র নিয়ে দিন পার করছেন নিদারুণ কষ্টে।
হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গত দুদিন ধরে রিং বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে আজ বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন সেখানে জিও টিউবের ভেতর বালু ভরে বিকল্প রিং বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের সহযোগিতায় কাজ করছে সেনাবাহিনীর একটি টিমও।
স্থানীয়রা জানান, গত ৩১ মার্চ ঈদের দিন সকাল ৯টার দিকে ঈদের নামাজ শেষে পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রায় দুশ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ হঠাৎ খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা আনুলিয়া ইউনিয়ন ব্যাপী। মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসীর ঈদের আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হয়। হাজার হাজার স্থানীয় গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গত দুদিনে দফায় দফায় ভাঙন পয়েন্টে বিকল্প রিং বাঁধ নির্মাণের প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও তা জোয়ারের তোড়ে ব্যর্থ হয়।
এরইমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে আনুলিয়া ইউনিয়নের ১২০০ পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ। পানিতে ভেসে গেছে চারশতাধিক মৎস্য ঘেরের প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমি এবং ৭ থেকে ৮০০ বিঘা ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। বিদ্যুৎহীন রয়েছে সেখানকার তিনটি গ্রাম। প্লাবিত এলাকায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির অভাব। একইসঙ্গে মানুষের রান্না-খাবার, হাঁস-মুরগি ও গো খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: নতুন বাঁধে ভাঙন, ১৬ কোটি টাকাই জলে!
বানভাসী মানুষ পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্র ও পাউবোর বাঁধে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অন্যত্র আত্মীয়র বাড়ি চলে গেছেন। কিছু যুবক শুকনো খাবার সরবরাহ করলেও সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ পানিবন্দি মানুষের।
পানিতে ডুবে রয়েছে আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের নয়াখালী, বিছট, বল্লবপুর, বাসুদেবপুর, আনুলিয়া, চেচুয়া, কাকবাশিয়া, মীর্জাপুর, চেউটিয়াসহ আশপাশের ১৪ গ্রাম। তবে আজ নতুন করে কোন গ্রাম প্লাবিত হয়নি। দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না হলে আনুলিয়া ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী খাজরা ও বড়দল ইউনয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
এদিকে, আজ পাউবোর খুলনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম, সাতক্ষীরা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায়, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুসসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস জানান, আজ সকাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজন সেখানে জিও টিউবের মধ্যে বালু ভরে বিকল্প রিং বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করছেন। ঈদের কারণে শ্রমিক সংকট ও বালু বোর্ড আনতে দেরি হওয়ায় কাজ শুরু করতে একটু বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগকে একত্রে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বাঁধ মেরামত করা হবে।
]]>