১২ বছর বয়সে তুমি কী করছিলে? ওহ্, তোমার বয়সই এখন ১২? বেশ তো, কী করে সময় কাটে তোমার? স্কুল, কোচিং আর ফাঁকে ফাঁকে একটু ভিডিও গেম খেলা? ওহ্, তুমি বিকেলে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলো? বেশ ভালো কথা। খেলাধুলা করা ভালো। কিন্তু তোমার বয়সী একজন কিশোর যে একটা আস্ত পারমাণবিক চুল্লি বানিয়ে ফেলেছে। পারমাণবিক চুল্লি কী, তা জানো না? এটা হলো একধরনের নিয়ন্ত্রিত আগুন। তবে এই আগুন কাঠ বা গ্যাসের নয়, পরমাণুর ভেতরে লুকিয়ে থাকা শক্তির। আমরা একে বলি নিউক্লিয়ার ফিউশন। মানে একটি ভারী পরমাণু ভেঙে দুই টুকরা হলে সেখান থেকে প্রচুর শক্তি বেরিয়ে আসে। এই কাজই করা হয় পারমাণবিক চুল্লিতে, খুব হিসাব করে এবং সাবধানে। এটা আসলে অনেক বড়দের কাজ, মানে বিজ্ঞানীদের। সেটাই কিনা করে ফেলেছে তোমার বয়সী কেউ!
তা–ও আবার তার নিজের ঘরে বানিয়ে ফেলেছে। বিজ্ঞানীরা এমন কাজ করতে বিশাল বিশাল ল্যাবরেটরি বানান, অনেক বিজ্ঞানী ও কর্মী যুক্ত থাকেন এর সঙ্গে। কিন্তু এই কিশোর কাজটি করে ফেলেছে একাই।
ইরান যুদ্ধে দুবাইয়ে আটকা পড়েছে হাজার হাজার পোষা প্রাণীওহ্, এই কিশোরের নামটাই তো বলা হলো না। ওর নাম জ্যাকসন ওসওয়াল্ট। সে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস শহরে। জ্যাকসন তার প্লে-রুমটাকে রীতিমতো ল্যাবরেটরি বানিয়ে কাজটা করেছে।
অনলাইনে পুরোনো পার্টস কিনে প্রায় ১০ হাজার ডলার খরচ করে সে তৈরি করেছে একটি ফিউসার। এটি এমন এক যন্ত্র, যা দিয়ে ফিউশন বিক্রিয়া ঘটানো যায়। সহজ কথায়, এই যন্ত্র দিয়ে সে দুটি ডিউটেরিয়াম পরমাণুকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে জোড়া লাগিয়ে হিলিয়াম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বিষয়গুলো একটু বড় হলেই তোমরা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে।
সাধারণত ফিউশন বিক্রিয়া ঘটাতে সূর্যের মতো প্রচণ্ড তাপ ও চাপের দরকার হয়। কিন্তু জ্যাকসন তার ছোট্ট ল্যাবে ৫০ হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এই অসাধ্য সাধন করেছে। এর আগে সবচেয়ে কম বয়সে ফিউশন রিঅ্যাক্টর বানানোর রেকর্ড ছিল ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের। জ্যাকসন সেই রেকর্ড ভেঙে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম লিখিয়ে নিয়েছে। তবে সাবধান! জ্যাকসনের মতো জিনিয়াস না হলে তুমি ভুলেও ঘরে পরমাণু নিয়ে খেলতে যেয়ো না যেন!
গাড়িগুলো সব দানব হয়ে উঠছে








Bengali (BD) ·
English (US) ·