হিজরত শেষে নবীজি শোকরানার সিজদাহ করেন যেখানে

২ সপ্তাহ আগে
মক্কার তপ্ত মরুভূমি আর কাফেরদের ধাওয়া এড়িয়ে নবীজি (সা.) যখন মদিনার একদম দ্বারপ্রান্তে, তখন তিনি এসে পৌঁছালেন একটি উঁচু স্থানে, যার নাম ‘কারিন সরিহ’। এখান থেকেই প্রথম দেখা যাচ্ছিল হিজরতের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য, মদিনার সেই সবুজ খেজুর বাগান।

কারিন সরিহ-তে পৌঁছে যখন নবীজি (সা.) নিশ্চিত হলেন, তিনি নিরাপদে মদিনার সীমানায় প্রবেশ করেছেন, তখন তিনি উটনী থেকে নেমে পড়লেন। পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতায় লুটিয়ে পড়লেন সিজদায়। ইতিহাসে এটি ‘সিজদাতুত শুকর’ বা কৃতজ্ঞতার সিজদাহ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ কষ্টের পর বিজয়ের এই প্রথম নিশ্বাস তিনি নিয়েছিলেন এখানেই।


বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা ও সীরাত গ্রন্থে এই স্থানের কথা উল্লেখ রয়েছে। কারিন সরিহ হলো সেই জায়গা, যা মদিনার প্রবেশপথ বা উপকণ্ঠ হিসেবে গণ্য হতো। নবীজি (সা.)-এর সাথে থাকা আবু বকর (রা.) এবং অন্যান্য সঙ্গীরাও এই মুহূর্তে আল্লাহর প্রশংসা করেন। এই সিজদাহটি ছিল উম্মতের জন্য এক শিক্ষা—যেকোনো বিপদ থেকে মুক্তি পেলে বা বড় সাফল্যে প্রথমেই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

 

আরও পড়ুন: শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে কি জাকাত আদায় হয়?


এই কারিন সরিহ-এর খুব কাছেই ছিল ‘উসবাহ’ অঞ্চল, যেখানে সাহাবীরা আগে থেকেই সমবেত হয়েছিলেন। আজ হয়তো নগরায়নের ফলে সেই প্রাচীন পাহাড় বা টিলার রূপ বদলেছে, কিন্তু হাররাতুল কুসাইবা সংলগ্ন এই এলাকাটি আজও সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি বহন করে চলেছে। দর্শনার্থীরা মদিনার উপকণ্ঠে এলে আজও সেই পবিত্র আমেজ অনুভব করেন।


হিজরতের পূর্ণতা আর কৃতজ্ঞতার সেই অপূর্ব নিদর্শন—কারিন সরিহ। এ ঐতিহাসিক স্থান আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ধৈর্যের শেষ ফল সবসময়ই হয় মধুময় আর আল্লাহর শুকরিয়ায় অবনত হওয়ার নামই হলো প্রকৃত বিজয়।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন