‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারতে পারবে স্বামী

২ সপ্তাহ আগে
নারীদের বিরুদ্ধে নতুন একটি কড়া আইন জারি করলো আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। দেশটির সরকার স্বামীদের তাদের স্ত্রীদের ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে, যতক্ষণ না তাদের হাড় ভাঙে বা ক্ষত তৈরি হয়।

এই আইনটিতে সই করেছেন ইসলামপন্থি গোষ্ঠীর সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা।

 

তবে মারধরের ফলে ‘হাড় ভেঙে গেলে’ বা ‘জখম হলে’ স্বামীদের শাস্তি পেতে হবে নতুন এই আইনে বলা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন:কাবুল শান্তির নিশ্চয়তা না দিলে পাকিস্তান নতুন হামলা চালাবে: আসিফ

 

‘অশ্লীল বলপ্রয়োগের’ ক্ষেত্রে যদি কোনো স্বামী দৃশ্যমান হাড় ভাঙেন বা আঘাত করেন, তাহলে তাকে মাত্র ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তাছাড়া, পুরুষকে কেবল তখনই দোষী সাব্যস্ত করা হবে যদি কোনো নারী আদালতে নির্যাতনের প্রমাণ সফলভাবে দিতে পারেন। নারীকে  সম্পূর্ণরূপে ঢেকে বিচারকের কাছে তার ক্ষত দেখাতে হবে বলে আশা করা হয়। তার স্বামী বা একজন পুরুষ সহচরকেও আদালতে তার সাথে যেতে হবে।


অন্যদিকে, একজন বিবাহিত নারী যদি তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার আত্মীয়দের সাথে দেখা করেন তবে তাকে তিন মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে।


এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। ধর্মীয় পণ্ডিত (উলামা), অভিজাত (আশরাফ), মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত। এই ব্যবস্থার অধীনে, একই অপরাধের শাস্তি আর প্রাথমিকভাবে অপরাধের প্রকৃতি বা গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারিত হয় না বরং অভিযুক্তের সামাজিক অবস্থান দিয়ে নির্ধারিত হয়।

 

আইন অনুযায়ী, যদি কোন ইসলামী ধর্মীয় পণ্ডিত কোন অপরাধ করেন, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া কেবল পরামর্শের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যদি অপরাধী অভিজাত শ্রেণীর হন, তাহলে তার পরিণতি হবে আদালতে সমন এবং পরামর্শ। তথাকথিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ব্যক্তিদের জন্য একই অপরাধের ফলে কারাদণ্ড হবে। কিন্তু নিম্ন শ্রেণীর ব্যক্তিদের জন্য শাস্তি কারাদণ্ড এবং শারীরিক শাস্তি উভয়ই।

 

গুরুতর অপরাধের জন্য শারীরিক শাস্তি ইসলামী ধর্মগুরুরা দেবেন।  সংশোধনাগার নয়।

 

আরও পড়ুন:পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ৫০টি রকেট লঞ্চার উন্মোচন উত্তর কোরিয়ার

 

নতুন ৯০ পৃষ্ঠার দণ্ডবিধির মাধ্যমে ২০০৯ সালের নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা নির্মূল আইন বাতিল হয়েছে। যা পূর্ববর্তী মার্কিন-সমর্থিত শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত করেছিল। 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন