হাসির রেখা কমাতে চান? কাজে দেবে এই সহজ উপায়গুলো

৩ সপ্তাহ আগে
আপনি যখন হাসেন, সেই হাসিটা হয়তো কারো মন ছুঁয়ে যায়। কিন্তু হাসির ফলে ত্বকে তৈরি হয় হাসির রেখা বা স্মাইল লাইন। এটিকে শুধু বয়সের ছাপ ভাবা ভুল হবে। এগুলো দেখায় আপনি কতটা হাসিখুশি জীবন কাটিয়েছেন।

সময়ের সাথে সাথে এই “হাসির রেখা” বেশি করে চোখে পড়ে। তাই কেউ যদি এই বলিরেখা কিছুটা কমাতে চায়, কৃত্রিম সার্জারিতে না গিয়ে কিছু প্রাকৃতিক উপায়েই তা সম্ভব। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে  চলুন জেনে নিই তেমনই কিছু সহজ উপায় –

 

১. ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা

আপনার ত্বক যত আর্দ্র, হাসির রেখা তত কম চোখে পড়ে। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সকালে-রাতে হালকা চাপ দিয়ে ফোল্ডগুলোতে লাগান। পানি বেশি পান করুন, চিনি বা অতিরিক্ত কফি কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। আর্দ্র ত্বক ফ্রেশ, পূর্ণ দেখায় এবং লাইনগুলো স্বাভাবিকভাবে নরম মনে হয়।

 

২. মাসাজ ও মুখের ব্যায়াম

মুখের মাসাজ বা হালকা ব্যায়াম ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, মাংসপেশি টোন বাড়ায়। মুখ টানার দরকার নেই। আঙ্গুল দিয়ে হাসির রেখা ধরে হালকা চাপ দিয়ে উপরের দিকে থাপ থাপ করুন। দিনে কয়েক মিনিট করলে ত্বক সতেজ, ঝরঝরে ও প্রাকৃতিকভাবে লিফটেড দেখায়।

 

আরও পড়ুন: এক উপাদানেই কমে বলিরেখা, ব্রণ, মানসিক চাপ

 

৩. ফেসিয়াল ফিলার (দ্রুত ফলাফলের জন্য)

ক্রিমের চেয়ে দ্রুত ফলাফলের জন্য হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার ব্যবহার করা যায়। এগুলো ফোল্ডের নিচে হালকা ভলিউম যোগ করে ত্বককে মসৃণ করে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যাওয়া উচিত। এক বা দুই সেশনেই স্বাভাবিকভাবে কম রেখা দেখানোর মতো ফলাফল পাওয়া যায়, যা ৬–১২ মাস থাকে। তবে ফিলার কম ব্যবহার করা ভালো।

 

৪. জীবনযাত্রা ঠিক রাখা

আপনার জীবনধারা ত্বকে সরাসরি প্রতিফলিত হয়। ধূমপান, বেশি চিনি, কম ঘুম, স্ট্রেস—সব ত্বকের বয়স বাড়ায়। এর বিপরীতে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ত্বককে টানটান ও পুষ্ট রাখে। হাঁটা বা ছোট ধ্যানের মতো স্ট্রেস কমানোর অভ্যাস ত্বকের প্রাকৃতিক পুনর্নির্মাণে সাহায্য করে। ত্বকের স্বাস্থ্য শুধু পণ্যের ওপর নয়, নিজের যত্নেরও ওপর নির্ভর করে।

 

৫. মেকআপের কৌশল

 

মেকআপও হাসির রেখা কমাতে সাহায্য করতে পারে। সিলিকন প্রাইমার দিয়ে লাইনগুলো হালকা ঢেকে নিন। হালকা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন, মোটা লেয়ার এড়িয়ে চলুন। ছোট ব্রাশ বা আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে প্রডাক্ট দিন। শেষে হালকা পাউডার লাগান। ত্বক মসৃণ, সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাবে।

 

৬. নিয়াসিনামাইড ও ভিটামিন সি
 

নিয়াসিনামাইড (ভিটামিন বি৩) ত্বকের শক্তি বাড়ায়, স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং ত্বক সুন্দর করে। ভিটামিন সি সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করলে কোলাজেন বৃদ্ধি পায় এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়। নিয়মিত ব্যবহার করলে হাসির রেখা কমে এবং ত্বক ফ্রেশ, টানটান ও প্রাণবন্ত দেখায়।

 

আরও পড়ুন: মুখে বয়সের ছাপ দূর হবে ঘরোয়া উপকরণে!

 

৭. রেটিনয়েডস

 

রেটিনয়েডস ত্বকের কোষ নতুন করে তৈরি করে এবং কোলাজেন বাড়ায়। প্রথমে সপ্তাহে ২–৩ দিন হালকা ব্যবহার করুন। সঙ্গে ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ধৈর্য ধরলে ত্বক আরও টানটান, প্রাণবন্ত দেখাবে এবং হাসির রেখা কমে যাবে।

 

৮. সূর্য থেকে সুরক্ষা

 

সূর্যের ইউভি রশ্মি ত্বকের বয়স দ্রুত বাড়ায়। প্রতিদিন SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন শুধু মুখ নয়, ঘাড় ও বুকেও লাগানো উচিত। ছাতা, হ্যাটও সাহায্য করতে পারে। সানস্ক্রিন বলিরেখা মুছে দেবে না, তবে নতুন বলিরেখা তৈরি হওয়া রোধ করবে এবং ত্বককে স্বাস্থ্যবান রাখবে।

 

৯. ধৈর্য ধরাই মূল চাবিকাঠি

 

কোনো ক্রিম বা সিরাম রাতারাতি কাজ করে না। হাইড্রেটর কিছুদিনের মাঝেই সাহায্য করতে পারে, কিন্তু ভিটামিন সি বা রেটিনয়েডস ফলাফল দেখাতে ৮–১২ সপ্তাহ সময় নেবে। ফিলার হলে কয়েকদিনের মধ্যে বসে যাবে। নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে সময়ের সঙ্গে ভালো ফলাফল আসবেই।

 

হাসির রেখায় আমাদের জীবনের গল্প ফুটে ওঠে। এগুলো কমাতে হলে সঠিক যত্ন, ধৈর্য এবং সুস্থ জীবনধারা দরকার। ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনে। তাই হাসি বন্ধ করবেন না, শুধু যত্ন নিন এবং ত্বককে প্রাণবন্ত ও সতেজ রাখুন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন