হাম কিভাবে ছড়ায়?
১. হাঁচি, কাশি ও কথা বলার মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়।
২. শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।
৩. এ ভাইরাস প্রায় ২ ঘণ্টা বাতাসে ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে।
৪. ফুসকুড়ি ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পরে পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়ায়।
প্রধান লক্ষণসমূহ কি কি?
১. উচ্চ জ্বর
২. সর্দি ও নাক দিয়ে পানি পড়া
৩. কাশি
৪. চোখ লাল হওয়া
বিশেষ লক্ষণ-
১. মুখের ভেতরে সাদা দাগ
২. মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
আরও পড়ুন: হামের মতো উপসর্গ হয় আর কোন কোন রোগের?
কারা ঝুঁকিপূর্ণ?
১. টিকা না নেয়া শিশু
২. ৫ বছরের কম বয়সী শিশু
৩. অপুষ্টিতে ভোগা শিশু (ভিটামিন এ ঘাটতি)
৪. দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি
৫. ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী
এ রোগের জটিলতাসমুহ কি কি?
১. নিউমোনিয়া (সবচেয়ে গুরুতর)
২. ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা
৩. কানের সংক্রমণ
৪. এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ)
৫. অন্ধত্ব (ভিটামিন এ ঘাটতির কারণে)
হাম কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
১. টিকা হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
২. বাংলাদেশে টিকা প্রধান কর্মসূচীতে (এমএমআর) টিকা দেওয়া হয়।
৩. ১ম ডোজ: ৯ মাস বয়সে
৪. ২য় ডোজ: ১৫ মাস বয়সে
৫. এ টিকা শিশুদের হাম রোগ থেকে ৯৫-৯৯% সুরক্ষা প্রদান করে।
আরও পড়ুন: টিকা নেয়ার পরও কী হাম হতে পারে?
চিকিৎসা ও করণীয় কি?
১. নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই।
২. জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ/ট্যাবলেট খাওয়ানো যেতে পারে।
৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার দ্রুত রোগ উপশমে সহায়ক।
৪. ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট রোগের জটিলতা প্রতিরোধে কাজ করে।
৫. প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক (দ্বিতীয় সংক্রমণে) দেয়া যেতে পারে।
৬. রোগ ছড়ানো রোধে রোগীকে আলাদা রাখা (আইসোলেশন) রাখা আবশ্যক।
অভিভাবকের করণীয় কি?
১. জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া।
২. অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা।
৩. বিপদচিহ্ন (শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত দুর্বলতা) দেখলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।
সংক্রমণ প্রতিরোধ করনীয় কি?
১. সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা।
২. হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা।
৩. নিয়মিত হাত ধোয়া।
৪. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
৫. পুষ্টিকর খাবার ও ভিটামিন এ গ্রহণ।
হাম একটি মারাত্মক রোগ হলেও সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। টিকাদান ও সচেতনতার মাধ্যমেই এটি নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল সম্ভব
সকলের সম্মিলিত উদ্যোগই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে পারে ।
লেখক: কর্নেল ডা. নাজমুল হুদা খান (অব.) এমফিল, এমপিএইচ
জনস্বাস্থ্য বিষশেষজ্ঞ ও পরিচালক, মেডিকেল সার্ভিসেস, বিআরবি হাসপাতাল

২ সপ্তাহ আগে
৩







Bengali (BD) ·
English (US) ·