ইসলামের মৌলিক শিক্ষা অনুযায়ী প্রকৃত শহীদ সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর পথে, তাওহিদের কালেমাকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে লড়াই করতে গিয়ে নিহত হন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা তাদের মৃত বলো না, যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে; বরং তারা জীবিত।” (সুরা বাকারা: ১৫৪)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে রিজিকপ্রাপ্ত (সুরা আলে ইমরান: ১৬৯)। এই শ্রেণির শহীদদের মর্যাদা সর্বোচ্চ।
তবে ইসলামের রহমত ও ব্যাপকতার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) শহীদের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছেন। হাদিসে এসেছে, মহামারীতে মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, আগুনে পুড়ে মৃত্যু, পেটের রোগে মৃত্যু, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু এবং সন্তান প্রসবকালে মৃত্যুবরণকারী নারী এদের সবাইকে শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে (আবু দাউদ: ৩১১১, মুয়াত্তা মালিক)। এসবকে হুকুমি শহীদ বলা হয়, অর্থাৎ তারা যুদ্ধক্ষেত্রের শহীদের মতো না হলেও আখিরাতে শহীদের সওয়াব লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ।
এই আলোচনার আলোকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির বিষয়টি বুঝা যায়। সড়ক দুর্ঘটনা অনেক ক্ষেত্রে আকস্মিক ও কষ্টদায়ক মৃত্যু, যা ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া বা হঠাৎ বিপদে পতিত হয়ে মৃত্যুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন: শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে কি জাকাত আদায় হয়?
এজন্য অনেক আলেম মত দিয়েছেন, এ ধরনের মৃত্যু হুকুমি শহীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মুসলমান ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ শহীদের মর্যাদা লাভ করতে পারেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। ব্যক্তি অবশ্যই ঈমানদার হতে হবে এবং তার মৃত্যু এমন কোনো গুনাহ বা অন্যায়ের কারণে না হওয়া উচিত, যেমন—অবৈধ কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু। কারণ ইসলামে শহীদের মর্যাদা ঈমানের সাথে সম্পর্কিত।
সবশেষে বলা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক হলেও একজন মুমিনের জন্য এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমতের আশা রয়েছে। আমরা কারো ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে শহীদ বলে ঘোষণা না দিয়ে ‘ইনশাআল্লাহ শহীদ’ বলি। আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের সবাইকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করেন এবং উত্তম পরিণতি নসিব করেন। আমিন।
]]>

২ সপ্তাহ আগে
৭







Bengali (BD) ·
English (US) ·