শনিবার (১১ এপ্রিল) ঘরের মাঠে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ২৩ রানে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। এদিন আগে ব্যাট করা চেন্নাই সাঞ্জু স্যামসনের সেঞ্চুরি এবং আয়ুশ মাহাত্রের অর্ধশতকে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২১২ রান তোলে।
জবাব দিতে নেমে ২০তম ওভারের শেষ বলে অলআউট হওয়ার আগে ১৮৯ রান করতে সমর্থ হয় দিল্লি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে শিরোপা এনে দেয়া সাঞ্জু আইপিএলে চেন্নাইয়ের হয়ে প্রথম তিন ম্যাচেই ম্লান ছিলেন। এই তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৬, ৭, ও ৯ রানের ইনিংস। অবশেষে দিল্লির বিপক্ষে হেসে উঠল তার ব্যাট। সাঞ্জু ঝড়ের তোড়ে ভেসে গেছে দিল্লি।
ওপেনিংয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে সাঞ্জু আইপিএল ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। মাত্র ৫৬ বলে ১৫ চার ও ৪ ছক্কায় ১১৫ রান করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
আরও পড়ুন: মুকুলের বাবা ছেলের স্বপ্ন পূরণ করার পথে জেলও খেটেছেন
আরেক ওপেনার ও অধিনায়ক রুতুরাজ আউট হয়েছেন ১৫ রান করে। ওয়ান ডাউনে নেমে আয়ুশ মাহাত্রে সাঞ্জুকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী তারকা অবশ্য অবশ্য রিটায়ার্ড আউট হয়েছেন শেষ পর্যন্ত। তার আগে ৩৬ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ৫৯ রান। শেষদিকে শিভাম দুবে ১০ বলে ২০ রানের ক্যামিও খেলেন।
দিল্লির হয়ে অক্ষর প্যাটেল একমাত্র উইকেটটি শিকার করেন।
জবাব দিতে নেমে ঝড়ো শুরু পেয়েছিল দিল্লি। পাতুম নিশাঙ্কা ও কেএল রাহুল মাত্র ৫ ওভারেই ৬০ রান তুলে ফেলেন। এই জুটি ভেঙে চেন্নাইকে ব্রেকথ্রু এনে দেন খলিল আহমেদ। ১০ বলে ১৮ রান করে আউট হন রাহুল।
পরের ওভারে আনশুল কাম্বোজ বড় ধাক্কা দেন দিল্লিকে। ঝড় তোলা নিশাঙ্কাকে ফেরান তিনি। আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪১ রান করেন এই লঙ্কান। পরের ওভারে গুরজাপনীত ফেরান অক্ষরকে (১)।
জেমি ওভারটনও জ্বলে ওঠেন। সামির রিজভীকে (৬) ফিরিয়ে শিকার শুরু করেন। ১৩তম ওভারে ফেরান ডেভিড মিলারকে (১৪ বলে ১৭)।
আশুতোষ শর্মা ১০ বলে ১৯ রান করে নুরের বলে আউট হন। তবে দিল্লিকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন ত্রিস্তান স্ট্যাবস। ১৯তম ওভারে তাকেও ফেরান ওভারটন। স্ট্যাবস আউট হওয়ার আগে ৩৮ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৬০ রান করেন। সেই সঙ্গে হার নিশ্চিত হয়ে যায় দিল্লির। ৬ রান করতেই বাকি ২ উইকেট হারায় তারা।
আরও পড়ুন: বোর্ডকে আদালতে টেনে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন থুশারা
চেন্নাইয়ের পক্ষে সেরা বোলার ওভারটন ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন। কম্বোজ ৩টি এবং খলিল, গুরজাপনীত ও নুর ১তি করে উইকেট শিকার করেন।
হায়দরাবাদের বিপক্ষে দারুণ অর্ধশতকে পাঞ্জাবকে জয় এনে দিয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। ছবি: বিসিসিআই
এদিকে, দিনের আরেক ম্যাচে হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে পাঞ্জাব। নিউ চণ্ডীগড়ে আগে ব্যাট করা হায়দরাবাদ আগে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান তুলেছিল। জবাবে ১৮.৫ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব।
হায়দরাবাদ বড় সংগ্রহ পায় অভিষেক শর্মার ঝড়ে। ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে মাত্র ৮.১ ওভারে ১২০ রান স্কোরবোর্ডে যোগ করেন অভিষেক। কিন্তু নবম ওভারে শশাঙ্ক সিং দুজনকেই ফিরিয়ে হায়দরাবাদের লাগাম টানেন।
এই ওভারের প্রথম বলে হেডকে আউট করেন শশাঙ্ক। ২৩ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ রান করে বার্টলেটের হাতে ক্যাচ দেন। আর ওভারের তৃতীয় বলে অভিষেক ক্যাচ দেন আর্শদীপের হাতে। আউট হওয়ার আগে মাত্র ২৮ বলে ৫ চার ও ৮ ছক্কায় ৭৪ রান করেন তিনি।
তাদের বিদায়ের পর ইনিংস গতি হারালেও বড় সংগ্রহই পায় হায়দরাবাদ। ইশান কিশান ১৭ বলে ২৭, হেনরিখ ক্লাসেন ৩৩ বলে ৩৯ এবং অনিকেত ভার্মা ৯ বলে ১৮ রান করেন।
পাঞ্জাবের পক্ষে শশাঙ্ক ও আর্শদীপ ২টি করে উইকেট শিকার করেন। বার্টলেট নেন ১ উইকেট।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাবকে ৬.১ ওভারে ৯৯ রান এনে দেন প্রিয়াংশ আরিয়া ও প্রভসিমরান সিংয়ের জুটি। ২০ বলে ৫টি করে চার ও ছক্কায় ৫৭ রান করে প্রিয়াংশ আউট হলে এই জুটি ভাঙে।
আরও পড়ুন: চোটে আইপিএল শেষ হাসারাঙ্গার, বিকল্প খুঁজছে লখনৌ
প্রভসিমরানও অর্ধশতক তুলে নেন। ২৫ বলে ৪টি করে চার-ছক্কায় ৫১ রান করে শিভাং কুমারের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। পরের ওভারে কুপার কনোলিকে (১১) আউট করেন এই বাঁহাতি চায়নাম্যান বোলার।
তবে, তাতে পাঞ্জাবের জয় আটকায়নি। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার দারুণ অর্ধশতকে ৭ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ শেষ করেন। শ্রেয়াস ৩৩ বলে ৫টি করে চার-ছক্কায় ৬৯ রান করেন। নেহাল ওয়াধেরা ১৪ ও শশাঙ্ক সিং ১৬ রান করে তাকে সঙ্গ দেন।
হায়দরাবাদের পক্ষে শিভাং ৩টি এবং হার্শ দুবে ১টি উইকেট শিকার করেন।
]]>

২২ ঘন্টা আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·