শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অস্ত্রাগারে ডিউটিরত অবস্থায় তিনি এ চরম পথ বেছে নেন।
নিহত সম্রাট বিশ্বাস গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের কৃষক শৈলেন বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। শনিবার বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার।
সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটের দিকে সম্রাট অস্ত্রাগারের সামনে চেয়ারে বসে মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে কারো সাথে কথা বলছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং অস্ত্রাগারের বাক্স থেকে নিজের নামে বরাদ্দকৃত চাইনিজ রাইফেলটি বের করেন। ৪টা ৪১ মিনিটের দিকে রাইফেলের ব্যারেল মাথার সঙ্গে ঠেকিয়ে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন তিনি। গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত দেখতে পান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে পুলিশে যোগ দেয়া সম্রাটের সাথে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত কনস্টেবল পূজা দাশের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৬ মাস আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে সম্রাটের মনোমালিন্য চলছিল।
আরও পড়ুন: গভীর রাতে আসামির স্ত্রীর সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ মুহূর্ত’ পুলিশ কর্মকর্তার, গণপিটুনি
নিহতের মামা সত্যজিৎ রায় বলেন, ‘ভাগনে ওই মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। আমরা ওর সুখের কথা ভেবে মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সে মানসিকভাবে শান্তিতে ছিল না। ওর সহকর্মীদের কাছে শুনেছি, প্রায়ই ফোনে তাদের ঝগড়া হতো। গতরাতেও স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হওয়ার পর সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।’
সম্রাটের দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার শ্যালকের সঙ্গে বাবা-মায়ের কোনো ঝামেলা ছিল না। সে যা চাইত পরিবার তা-ই মেনে নিত। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া ছাড়া আত্মহত্যার অন্য কোনো কারণ আমরা দেখছি না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর বিচার চাই।’
আরও পড়ুন: চাকরিতে ফেরার পর এবার পদোন্নতি পেলেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনুর
শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সম্রাটের মরদেহ কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ও আদরের ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা সবিতা বিশ্বাস। এলাকায় নেমে আসে শোকের কালো ছায়া। রাতেই সম্পন্ন করা হয় শেষকৃত্য।
]]>

৫ দিন আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·