গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর ধারায় মামলাটি দায়ের করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) এই কর্মকর্তা জানান, গত ২২ এপ্রিল স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নমানের ও বাসি-পচা খাবার সরবরাহ করার কারণে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স বিস্কুট বিপণি’ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে মেসার্স বিস্কুট বিপণির মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন মোবাইল ফোনে জানান ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘গাক এনজিওর মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য আমরা বন রুটি সরবরাহ করে থাকি। এই প্রকল্পের শুরু থেকেই আমরা এর সঙ্গে জড়িত, কিন্তু কখনো কোনো সমস্যা হয়নি।’
গাক এনজিওর ওপর অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘গত ২২ তারিখে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলেও এতে আমাদের কোনো দোষ নেই। কারণ, ছাত্রদের মাঝে শনি, রবি, সোম, বুধ ও বৃহস্পতিবার বন রুটি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গাক এনজিওকে সোমবারের (২০ এপ্রিল) জন্য রোববার (১৯ এপ্রিল) বন রুটি সরবরাহ করা হয়েছিল। সেখান থেকে এক কার্টন বন রুটি উদ্বৃত্ত থেকে যায়। মঙ্গলবার স্কুলে বন রুটি সরবরাহ করা হয় না। সেই পুরোনো রুটি তারা বুধবার (২২ এপ্রিল) একটি স্কুলে সরবরাহ করে। ১৯ এপ্রিলের সেই বাসি রুটি খেয়েই ছাত্ররা অসুস্থ হয়ে পড়ে।’
আরও পড়ুন: সময় টিভিতে প্রতিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, দুই সপ্তাহেই চালু হলো সেতু
স্কুল কর্তৃপক্ষেরও গাফিলতি রয়েছে দাবি করে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা সব সময় স্কুল কর্তৃপক্ষকে বলি, আপনারা তারিখ দেখে বন রুটি গ্রহণ করবেন। এক দিন আগের তারিখের বন রুটি নেবেন, তা ছাড়া নেবেন না। তা ছাড়া গাক এনজিওর গোডাউন মানসম্মত নয়, এ জন্য ইতোমধ্যে তাদের জরিমানাও করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআইসহ খাবার উৎপাদনের সবকিছু ঠিক আছে। আমাদের পণ্যের মানও ঠিক আছে। আমরা চাই না এই প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যাক, কারণ এর মাধ্যমে অনেক বাচ্চা টিফিন পাচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার তিনটি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ছিল গোমস্তাপুর উপজেলার মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে ১৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ জন এবং সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা মূলত পেটব্যথা, বমি ভাব এবং চরম শারীরিক দুর্বলতার অভিযোগ করেছিল। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।
]]>
৫ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·