সৌদি ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে মুখ খুললেন পাকিস্তানের মন্ত্রী

২ দিন আগে
প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রাজা হায়াত হাররাজ বলেন, তিন আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে সম্ভাব্য এই চুক্তিটি সৌদি–পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে আলাদা। চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে তিন দেশের মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

 

হাররাজ বলেন,

পাকিস্তান–সৌদি আরব–তুরস্ক ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি এরইমধ্যে পাইপলাইনে রয়েছে। খসড়া চুক্তিটি তিন দেশের কাছেই রয়েছে। সবাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। এই খসড়া প্রায় ১০ মাস ধরে রয়েছে।

 

এদিকে বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

 

আরও পড়ুন: সৌদির অর্থ, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র আর তুর্কি বাহিনী নিয়ে হচ্ছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’?

 

তিনি বলেন,

এই অঞ্চলে বহিরাগত অবিশ্বাস দূর করতে বৃহত্তর সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রয়োজন রয়েছে। যে অবিশ্বাস থেকে ‘ফাটল ও সমস্যা তৈরি হয় এবং এর ফলে বহিরাগত আধিপত্য, যুদ্ধ কিংবা সন্ত্রাসবাদজনিত অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়।

 

তিনি আরও বলেন, ‘এগুলোর সমাধানে আমাদের একটি প্রস্তাব রয়েছে বিশেষ করে নিরাপত্তা ইস্যুতে সব আঞ্চলিক দেশকে নিয়ে একটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা।’

 

এর আগে ব্লুমবার্গ-এর বরাত দিয়ে এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা কাঠামোর আদলে গড়ে ওঠা সৌদি আরব-পাকিস্তান নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হতে আলোচনা চলছে তুরস্কের সঙ্গে।

 

আরও পড়ুন: ইরানের পক্ষ নিয়ে কঠোর অবস্থানে সৌদি আরব

 

প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতোই বলা হয়েছে যে, জোটের এক সদস্যের বিরুদ্ধে ‘যেকোনো আগ্রাসন’-কে ‘সবার বিরুদ্ধে হামলা’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

প্রতিবেদন অনুসারে, প্রথমে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পাদিত এই নিরাপত্তা সমঝোতায় এখন আঙ্কারার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পেয়েছে।

 

বলা হচ্ছে, প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী, সৌদি আরব এতে আর্থিক সহায়তা দেবে, পাকিস্তান যোগ করবে তার পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও জনবল, আর তুরস্ক যুক্ত করবে সামরিক দক্ষতা ও নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন