২০২৪ সালের মে মাসে নাটোর সদর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট নির্মাণ করা হয়। তবে ইউনিটটি এখনো চালু হয়নি। এ কারণে কম খরচে এ রোগের সরকারি সেবা মিলছে না জেলার প্রায় এক হাজার কিডনি রোগীর।
রোগী ও স্বজনরা জানান, নাটোরে বেসরকারি পর্যায়ে মাত্র একটি হাসপাতালে ২ শয্যার ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা থাকলেও নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এ কারণে এ রোগে চিকিৎসা নিতে হলে রোগীদের যেতে হয় অন্য জেলায়। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ে খরচ। দ্রুত সদর হাসপাতালে ডায়ালাইসিস চালুর দাবি তাদের।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, জটিল এই রোগের চিকিৎসা জেলা শহরে নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট মহল উদ্যোগ নিলে এই রোগে আক্রান্তদের দুর্ভোগ কম হত।
বেসরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করতে আসা নাটোর শহরের এক কিডনি রোগীর স্বজন আসমা খাতুন জানান, কিডনি রোগের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। তার রোগীকে প্রতি সপ্তাহে দুদিন ডায়ালাইসিস করতে হয়। আর এই ডায়ালাইসিস করতে প্রতি মাসে ৩৫ থেকে ৩৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ডায়ালাইসিস ব্যবস্থা সদর হাসপাতালে থাকলে ৪ ভাগের এক ভাগ খরচ লাগত। খরচ কম লাগলে দির্ঘদিন চিকিৎসা করা সম্ভব হত।
আরও পড়ুন: রাজশাহী বিভাগে চরম ভোগান্তিতে রোগীরা
ডায়লসিস করতে আসা অন্য আরেক কিডনি রোগীর স্বজন রাশিদা বলেন, সদর হাসপাতালে ইউনিট চালু থাকলে শুধু খরচই কমত না। কিডিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও এখানে পদায়ন হত।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ইউনিটটি চালু করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আর যন্ত্রগুলো অব্যবহৃত থাকলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা গণপূর্ত বিভাগের।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মুক্তাদির আরেফীন বলেন, ‘কিডনি রোগীদের ইউনিটটি চালু হলে ভালো হবে। এটি চালুর জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি, দ্রুতই এটি চালু হবে।’
নাটোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার দেব বলেন,
কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার নির্মাণের কাজটি গত বছরের মে মাসে সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। এটা ব্যবহার করলে এখানে ইলেকট্রোমেকানিক যে ইকুইপমেন্টগুলো আছে, সেগুলো সচল থাকবে।
আরও পড়ুন: বরিশাল বিভাগে চরমভাবে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা
নাটোর সদর হাসপাতালে ১০ বেডের কিডনি ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
]]>