সেনাদের জীবন কোরবানি দিচ্ছে ইউক্রেন: রুশ সেনাপ্রধান

১৫ ঘন্টা আগে
রাশিয়ার সেনাপ্রধান (সিওএস) জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেছেন, ব্যর্থ প্রতিরক্ষার চেষ্টায় হাজার হাজার সেনার জীবন কোরবানি করছে ইউক্রেন। কিয়েভের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ সত্ত্বেও রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান ধরে রেখেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সেনা কমান্ডারদের সাথে এক ব্রিফিংয়ে গেরাসিমভ এসব কথা বলেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আরটি।

রুশ সেনাপ্রধান বলেন, রুশ সেনারা সম্মুখ সারির প্রায় সর্বত্র আক্রমণাত্মক অবস্থানে রয়েছে এবং চলতি মাসের শুরু থেকে আটটি অতিরিক্ত বসতি মুক্ত করেছে এবং ৩০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর নেতারা সব উপায় অবলম্বন করছে এবং আমাদের অগ্রগতি থামানোর চেষ্টায় নিজেদের ক্ষতির দিকে কোনো মনোযোগ দিচ্ছে না।’

 

তিনি বলেন, ‘তবে রুশ সেনা ও অফিসারদের বীরত্ব, কর্মীদের সূক্ষ্ম ও সমন্বিত পরিকল্পনা এবং সামরিক ইউনিট কমান্ডারদের কার্যকর নেতৃত্বের কারণে প্রতিপক্ষের সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।’

 

রুশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেলের এই ব্রিফিংটি ছিল সেন্টার গ্রুপের পরিদর্শনের অংশ। তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেয়া রুশ বাহিনীগুলোর মধ্যে সেন্টার গ্রুপই সম্প্রতি সবচেয়ে তীব্র লড়াইয়ে জড়িয়েছে।

 

আরও পড়ুন: ইউরোপের বিরুদ্ধে কখন পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, জানালেন পুতিনের সাবেক উপদেষ্টা

 

গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। সামনের সারিতে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, অনেক সেনা পালিয়ে যাচ্ছে, আর নতুন সেনা পাঠানোও কঠিন হয়ে উঠেছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধের ময়দানের বাস্তবতা উপেক্ষা করছেন এবং যুদ্ধের সমঝোতামূলক সমাধানের পথে যেতে চাইছেন না। রাশিয়ার দাবি, এই সমঝোতার উদ্যোগ নিতে চাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

ট্রাম্প বলেছেন, বিপুল প্রাণহানিই দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার জন্য তার জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রধান কারণ। চলতি সপ্তাহে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষ মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার সেনা নিহত হচ্ছে। তবে তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

 

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের দখল হুমকির মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছালো ইউরোপীয় সেনা

 

এদিকে ইউক্রেনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে সদ্য দায়িত্ব নেয়া মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া বা কাউকে কিছু না জানিয়ে প্রায় ২ লাখ সেনাসদস্য কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

 

তিনি আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে সামরিক দায়িত্ব এড়ানোর অভিযোগে প্রায় ২০ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছেন। ফেদোরভ প্রথম কোনো ইউক্রেনীয় নেতা যিনি সেনাদের পালানোর বিষয়টি স্বীকার করলেন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন