মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’–এর অংশ হিসেবে ‘সিরিয়াজুড়ে একাধিক আইএস লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়।
সেন্টকমের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট: যদি তুমি আমাদের যোদ্ধাদের ক্ষতি করো, তাহলে আমরা তোমাকে খুঁজে বের করব এবং বিশ্বের যেখানেই থাকো হত্যা করব, তুমি যতই ন্যায়বিচার এড়াতে চেষ্টা করো না কেন।’ তবে হামলায় কেউ নিহত হয়েছে কিনা তা বিবৃতিতে বলা হয়নি।
সেন্টকম জানিয়েছে, হামলাগুলো স্থানীয় একটি বাহিনীর সাথে নিয়ে চালানো হয়েছে। তবে কোন বাহিনী অংশ নিয়েছিল তাও নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
সিবিএস নিউজকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রবাহিনী ২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টির বেশি স্থানে নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে। অভিযানে এফ‑১৫ই, এ‑১০, এসি‑১৩০জে, এমকিউ‑৯ ও জর্ডানিয়ান এফ‑১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আলেপ্পোতে সিরীয় বাহিনী-এসডিএফের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ছয়
গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ার পালমিরায় আইএসের এক বন্দুকধারীর হামলায় তিন মার্কিন নিহত হন। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বন্দুকধারী সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন এবং তার কট্টরপন্থি দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
পালমিরা ইউনেসকো তালিকাভুক্ত প্রাচীন ঐতিহ্যের ধ্বংসাবশেষের জন্য পরিচিত। শহরটি একসময় আইএস যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই হামলার প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী, যার মাধ্যমে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে আইএসআইএল-এর অবকাঠামো এবং অস্ত্র সম্বলিত ৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরে হামলা চালানো হয়। ৩০ ডিসেম্বর মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ শুরুর পর তাদের সেনারা প্রায় ২৫ জন আইএস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে বা আটক করেছে।
কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) বছরের পর বছর ধরে সিরিয়ায় আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অংশীদার। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ওয়াশিংটন দামেস্কের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সমন্বয় ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে।
আরও পড়ুন: ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২
এদিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও আলেপ্পোতে সিরীয় বাহিনী ও এসডিএফের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন। এতে গত কয়েকদিনের এই সংঘাতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। আহত ছাড়িয়েছে দুই শতাধিক।
এর মধ্যেই শেখ মাকসুদ এলাকায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে সিরীয় বাহিনী। আত্মসমর্পণের পর এসডিএফ যোদ্ধাদের বাসে করে অন্য জায়গায় পাঠানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এসডিএফ।
]]>
৫ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·