মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে ওই ১০ জন সাক্ষ্য দেন।
এ বিষয়ে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন বলেন, ‘সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় মঙ্গলবার দুদক পক্ষ থেকে আদালতে ১০ সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৫ মে মামলার পরবর্তী সাক্ষীর দিন ধার্য করেছেন আদালত।’
এরআগে গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬), তার স্ত্রী ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) ও রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬)।
আরও পড়ুন: ২৫ কোটি টাকা পাচার: সাবেক মন্ত্রী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিচার শুরু
সাবেক পরিচালকদের মধ্যে আরও আছেন- বশির আহমেদ (৫৫), আফরোজা জামান (৪৮), সৈয়দ কামরুজ্জামান (৬১), মো. শাহ আলম (৬২), মো. জোনাইদ শফিক (৬৪), অপরূপ চৌধুরী (৬৫), তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬), ইউনুছ আহমদ (৭৯), হাজী আবু কালাম (৭৯), নুরুল ইসলাম চৌধুরী (৬২) এবং সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর (৭৭) ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী (৬৪)।
ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন- মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ (৫১), আবদুল হামিদ চৌধুরী (৫০), আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান (৪৬), মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন (৬২) ও বজল আহমেদ বাবুল (৫৬)।
জাবেদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা হলেন- মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী (৫১), মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম (৫০), আব্দুল আজিজ (৩৯), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৪), মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী (৪৮), ইয়াছিনুর রহমান (৪৩), ইউছুফ চৌধুরী (৪৫) ও সাইফুল ইসলাম (৪৫),আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পাল (৫১), প্রদীপ কুমার বিশ্বাস (৫১), মো. জাহিদ (৪৫), মো. শহীদ (৪৯), মো. সুমন (৩৯), ইলিয়াস তালুকদার (৫০) ও ওসমান তালুকদার (৪৮)।
আরও পড়ুন: ৫২ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রাথমিকভাবে ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল ও জাবেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলদার মারা যাওয়ায় তাদের নাম বাদ দেয়া হয় এবং নতুন করে আরও সাতজনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সব মিলিয়ে ৩৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়, যেখানে ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট লিমিটেডের প্রোটোকল কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেখানো হয়। জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ইউসিবিলের শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা আকরামউল্লাহ এবং তৎকালীন শাখা প্রধান ও ডেপুটি প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা আবদুল হামিদ চৌধুরী কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে হিসাবটি অনুমোদন দেন।
আরও পড়ুন: ঋণ জালিয়াতি: সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভিশন ট্রেডিংয়ের নামে গম, মসুর, ছোলা ও হলুদ মটর কেনার কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য ২৫ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হয়। মিথ্যা স্টক ও গুদাম সংক্রান্ত তথ্য দেখিয়ে কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। একই বছরের ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৪৪৮তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ঋণটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া, আরামিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট পিএলসির নামে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার তথ্য দেখিয়ে ১৪১ কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাবেদের বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা করবে বলে জানিয়েছে দুদক।
উল্লেখ্য, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইতোমধ্যে আদালত জাবেদ ও তার স্ত্রীর নামে যুক্তরাজ্যে ৩৪৩টি, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২২৮টি এবং যুক্তরাষ্ট্রে নয়টি সম্পত্তিসহ বিভিন্ন দেশে থাকা স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন।

১ সপ্তাহে আগে
৫








Bengali (BD) ·
English (US) ·