সাবেক এমডি আব্দুছ ছালামের মদদেই বড় ঋণ জালিয়াতি হয় জনতা ব্যাংকে!

২ দিন আগে
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের শীর্ষ পদে থেকে পাহাড়সমান অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক এমডি আব্দুছ ছালাম আজাদের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এই জালিয়াতি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্থিক খাতে সুশাসন ফেরাতে এ ধরনের বড় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

 

আওয়ামী শাসনামলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে ঋণের নামে অর্থ লুটপাট ও পাচারের বড় অভিযোগগুলোর একটি ছিল জনতা ব্যাংককে ঘিরে। বেক্সিমকো গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, অ্যাননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জমা পড়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে।

 

সংস্থাটির তথ্যমতে, জনতা ব্যাংকের বর্তমান খেলাপি ঋণের পরিমাণ অন্তত ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এককভাবে বেক্সিমকো নিয়েছে ২৩ হাজার কোটি এবং এস আলম গ্রুপ ১০ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে অ্যাননটেক্সের ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির মামলায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাত ও সাবেক এমডি আব্দুছ ছালাম আজাদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এই মামলায় গত মার্চে আদালতে হাজিরা দিতে গেলে জামিন নামঞ্জুর করে আব্দুছ ছালামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

 

দুদকের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম বলেন, কয়েক হাজার কোটি টাকার দাবি রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। আব্দুছ ছালাম আজাদ তখন ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, ফলে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আবুল বারকাত, আতিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে উঠে আসছে।

 

আরও পড়ুন: জনতা ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাৎ: সালমানসহ ৯৪ জনের বিরুদ্ধে চার মামলা

 

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এমডি থাকাকালে আব্দুছ ছালাম আজাদের সরাসরি মদদে বড় অংকের ঋণ জালিয়াতি সংঘটিত হয়। এরইমধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের ৭টি মামলায় ২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা এবং অ্যাননটেক্সের ১৩৬ কোটি টাকার জালিয়াতিসহ অন্তত ৮টি মামলায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এসব মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদনও আদালত মঞ্জুর করেছেন।

 

দুদকের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকটিকে কার্যত দেউলিয়ার অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রকৃত মূল্য ১০ টাকা হলেও সেটিকে ১০০ টাকা দেখানো হয়েছে। অন্য মামলাগুলোতেও শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে এবং খুব শিগগিরই দুদক থেকে চার্জশিট দাখিল করা হলে সেগুলো বিচার পর্যায়ে যাবে।

 

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ জালিয়াতির প্রভাবে জনতা ব্যাংক এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তাই তৎকালীন এমডিসহ জড়িত প্রভাবশালীরা যেন আইনের আওতার বাইরে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।

 

অর্থনীতিবিদ ও টিআইবির সদস্য মাজেদুল হক বলেন, ঋণ খেলাপি ও অনিয়মের কারণে জনতা ব্যাংক এখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সে সময়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরই মধ্যে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। বেনামে ঋণ প্রদান ও অর্থ পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

 

এদিকে জনতা ব্যাংকের সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অনিয়মের অনুসন্ধানেও বর্তমানে দুদকের একাধিক দল কাজ করছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন