শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকার ইসলামিয়া হোটেলের সামনে থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে সময় টিভির ক্যাম্পাস প্রতিনিধি জাহিন সরকার আবিরের বাঁ হাত ভেঙে যাওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত অন্য শিক্ষার্থীরা হলেন যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আলীমুল শামীম, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব হোসেন ফরহাদ এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৬-৭ জন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। ৩ নম্বর রুটের একটি বাস আসতে দেখে তারা আনন্দ ও হৈ-হুল্লোড় করে সেদিকে এগিয়ে যান। এ সময় ইমন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে আসেন এবং গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে নাঈম নামে আরেক ব্যক্তি তাদের ওপর চড়াও হন। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ইমন ও নাঈম এর আগেও (৩১ আগস্ট ২০২৫) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার শিকার শিক্ষার্থী আলীমুল শামীম বলেন, ‘নাঈমের তেড়ে আসা দেখে সময় টিভির ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আবির ভিডিও শুরু করলে তারা ওর ফোন নিয়ে যায়। আবিরকে বলে কেন সে ভিডিও করছে? তখন আবির নিজেকে সাংবাদিক বলে পরিচয় দিলে তাকেও মারধর শুরু করে। এ সময় তার হাতে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে এবং মারতে থাকে।’
আরও পড়ুন: পড়ার টেবিলে হঠাৎ ঢলে পড়েন চবি শিক্ষার্থী জীবক চাকমা, বাঁচানো গেল না
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টায় অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতারা। চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘আমরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি। বারবার আমাদের ভাইদের ওপর তুচ্ছ ঘটনায় মারধর করা হচ্ছে। এটা ধারাবাহিকভাবে চলতে পারে না। আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘একজন সাংবাদিকসহ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তিনজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। ঘটনা জানার পর আমরা পুরো টিম ঘটনাস্থলে আসি। আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে এবং একজন চবি মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখানে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ সদস্যরা আছেন, দ্রুতই আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল কাশেম জানান, আবিরের বাঁ হাতের কনুইয়ের ওপর মারাত্মক আঘাত লেগেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এক্স-রে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আশিকুর রহমানের বাঁ হাতের মাংসপেশিতে মারাত্মক আঘাত লাগায় তাকে ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত ইমন ও নাঈমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি জানান, রাত আড়াইটার দিকে নাঈমকে এবং ভোর ৪টার দিকে ইমনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রতিমন্ত্রী তার স্ট্যাটাসে আরও বলেন, ‘আমি সব সময় বলে এসেছি অন্যায়, অবিচার ও অপরাধের ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স ছিল, আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ। অপরাধীর অপরাধ ব্যতীত আর কোনো পরিচয় নেই। বিচার সুনিশ্চিত করা হবে।’
]]>
১ সপ্তাহে আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·