সংশোধন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের করা টেলিকম নীতিমালা

১৮ ঘন্টা আগে
অংশীজনদের নানা আপত্তির মধ্যেই গেল বছরের ২২ সেপ্টেম্বর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করে অন্তর্বর্তী সরকার। যেখানে টেলিকম খাতের সব লাইসেন্সকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হয়। তবে এই নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে আপত্তি তুলে সংশোধনের ঘোষণা দেয় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।

পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠানকে সব স্তরে ব্যবসার সুযোগ দেয়া হয়েছে নীতিমালায়। অর্থাৎ গ্রাহক পর্যায়ে ব্যবসার পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরের বিদেশি মালিকরা চাইলে টাওয়ার কিংবা ফাইবার নেটওয়ার্ক নির্মাণে বিনিয়োগ করতে পারবে। অথচ একই সুবিধা রাখা হয়নি দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য।

 

টাওয়ার কিংবা এনটিটিএন লাইসেন্সধারী দেশি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন ক্যাবলসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য পরিষেবা খাতে কোনো লাইসেন্স না দেয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই নীতিমালা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গত ৩ জুলাই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘একতরফাভাবে এমন একটি নীতি প্রণয়ন করা ঠিক হবে না। এতে নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বড় টেলিকম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ছোট কোম্পানিগুলো পাল্লা দিয়ে টিকে থাকতে পারবে না। নীতিমালায় পরিষ্কার ব্যাখ্যার অভাবে বড় কোম্পানিগুলো সুযোগ নিতে পারে।’ 

 

খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, টেলিকমখাতের ৮০ শতাংশ রাজস্ব মোবাইল অপারেটরদের দখলে। বাকি ২০ শতাংশ রাজস্ব ভাগাভাগি করে ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘মোবাইল অপারেটরগুলো হচ্ছে নিজস্ব মালিকানাধীন। অপারেটর নিজে আসবে না, তার পেছনে যে কোম্পানি রয়েছে তারা চাইলে অন্য নাম নিয়ে আসতে পারে।’    

 

সামিট কমিউনিক্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলাম বলেন, মোবাইল অপারেটররা যদি ফাইবারটা আউট করতে পারে, তাহলে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডারের (এনআইসিএসপি) কোনো বিজনেসনেস থাকে না।’    

 

আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটে টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা, জরুরি সহায়তার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের

 

ব্রডব্যান্ড সেবাদাতাদের দাবি, নীতিমালা অনুযায়ী বাসাবাড়িতেও ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার সুযোগ আছে মোবাইল অপারেটরদেরও।

 

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা যারা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোবাইডার রয়েছি, ফাইবার আউটপুট দিতে পারবো এটা নির্দিষ্টভাবে নীতিমালায় উল্লেখ চাচ্ছি।’

 

এমন প্রেক্ষাপটে যৌক্তিক সংস্কার চায় মোবাইল অপারেটরাও। রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘হোলসেল রিভিভউ না করে যেসব জায়গায় সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধান করাটাই উত্তম হবে।’  

 

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্য ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মিলে আমরা একটা ক্লাস্টার করার উদ্যোগ নিয়েছি। সে ব্যপারে কথা হচ্ছিল, তখন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জাানিয়েছে তার শেষ পর্যায়ে রয়েছে, নীতিমালা সংশোধনের কাজ করছে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন