জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ের পর দলীয়ভাবে সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রংপুর বিভাগের মোট ৩৩টি আসনের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য রয়েছেন ১৪ জন। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পায় সংশ্লিষ্ট দল। সে হিসেবে রংপুর বিভাগ থেকে বিএনপি দু’জন নারী সংসদ সদস্য মনোনয়ন পেতে পারে এমন হিসাবেই এখন চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এই দুটি আসনকে ঘিরে ইতোমধ্যে তিন ডজনেরও বেশি নেত্রী সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলীয় কার্যালয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচারণা জোরদার করেছেন তারা।
এখন পযন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রংপুর জেলা থেকে ছয়জন নেত্রী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন- রংপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আরজানা বেগম, জেলা বিএনপির প্রয়াত সদস্য সচিব আনিসুর রহমান লাকুর স্ত্রী ও জেলা বিএনপির সদস্য রেজওয়ানা ইসলাম লুনা, জেলা বিএনপির সদস্য ও বদরগঞ্জ মহিলা দলের সভাপতি সাহেদা হাসান, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাহিদা রহমান জোসনা, প্রয়াত বিএনপি নেতা মোজাফফরের স্ত্রী সুফিয়া হোসেন এবং রংপুর মহানগর মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি।
মনোনয়ন সংগ্রহ করা প্রার্থীদের ঘিরে ইতোমধ্যে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়েও চলছে লবিং, যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রত্যাশা দল তাদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অবদান বিবেচনায় এনে মূল্যায়ন করবে।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আরজানা বেগম বলেন, 'দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন হলে আমি অবশ্যই আশাবাদী।'
জেলা বিএনপির সদস্য রেজওয়ানা ইসলাম লুনা বলেন, 'আমার স্বামী প্রয়াত আনিসুর রহমান লাকু আজীবন দলের জন্য কাজ করেছেন। আমিও তার আদর্শ অনুসরণ করে রাজনীতিতে সক্রিয় আছি। দল যদি সুযোগ দেয়, তাহলে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে কাজ করবো।'
বদরগঞ্জ মহিলা দলের সভাপতি সাহেদা হাসান বলেন, 'দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছি বারবার অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়েছি। দলের পক্ষে সব সময় নিরলস ভাবে কাজ করেছি। নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। আমি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করছি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই।'
আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী আসনে প্রথম দিন বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন ৫৪৪ জন
সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাহিদা রহমান জোসনা বলেন, 'সংসদে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। আবারও সুযোগ পেলে নারীর অধিকার, শিক্ষা ও উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব।'
রংপুর মহানগর মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি বলেন, 'দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে এবং নারীদের এগিয়ে নিতে আমি কাজ করে যাচ্ছি। মনোনয়ন পেলে সেই কাজ আরও বিস্তৃত করতে চাই।'
প্রয়াত বিএনপি নেতা মোজাফফরের স্ত্রী সুফিয়া হোসেন বলেন, 'আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়, আমি তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।'
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও ত্যাগের মূল্যায়নের প্রতিফলন। তাই রংপুরে মনোনয়ন ঘিরে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত। সব মিলিয়ে, সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কারা পাচ্ছেন কাঙ্ক্ষিত দলীয় মনোনয়ন।

২ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·