শীতে পাহাড়ে বাড়ছে পর্যটকদের সমাগম

১ সপ্তাহে আগে
শীতকালে পাহাড়ে পর্যটকদের সমাগম বাড়ছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ায় দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটিকে কাজে লাগাচ্ছে ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। যাতায়াতের সুবিধার কারণে পর্যটকরা খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক যাচ্ছেন। এতে আলুটিলা, রিছাং ঝরনা, জেলা পরিষদ পার্কসহ খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন স্পট মুখরিত হয়ে উঠেছে। অতিথি বাড়ায় ভালো ব্যবসা করছে হোটেল-মোটেল ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

খাগড়াছড়ি পাহাড়, অরণ্য, ঝিরি, ঝরনা ও উপত্যকা সমৃদ্ধ একটি পার্বত্য জেলা। শীতের শুরুতেই পর্যটকদের আগমন বাড়ছে। পাহাড়ের আবহাওয়া ভ্রমণ উপযোগী হওয়ায় দলবেধে ঘুরতে আসছে পর্যটকরা। আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গ, ঝুলন্ত সেতু, তারেং, রিছাং ঝরনা ও হর্টিকাল চার পার্কসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য পর্যটকরা মুখরিত। পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে পর্যটকরা মুগ্ধ। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শীতকাল অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় থাকবে।

 

পর্যটকরা জানান, পাহাড়ের নির্মল বাতাস, মুক্ত হাওয়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের আকর্ষণ করে। বিশেষ করে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে উপভোগ করা খাগড়াছড়ি শহরের মনোরম দৃশ্য ও আঁকাবাঁকা চেঙ্গী নদীর ধারা পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। আলুটিলার পাহাড় থেকে পাহাড়ে পাড় হওয়ার ব্যতিক্রমী সেতু, রহস্যময় গুহা ও রিছাং ঝরনার দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের আনন্দে ভরিয়ে দিচ্ছে।

 

একই সঙ্গে পর্যটকরা উল্লেখ করেছেন, পর্যটন স্পটগুলোতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ থাকলেও বিনোদনমূলক কার্যক্রম কম। তারা রাইডস, কুলিং কর্ণারসহ চা-কফি সুলভ মূল্যে পাওয়ার ব্যবস্থা চাইছেন।

 

 

 

পর্যটক বাড়ায় খুশি হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্টের ব্যবসায়ীরা। সাজেকগামী পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা থাকায় হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের আয় বাড়ছে। খাগড়াছড়ি হোটেল অরণ্য বিলাসের ম্যানেজার মো. আব্দুর রশিদ সাগর ও পর্যটন মোটেলের ম্যানেজার ক্যউসিং মারমা জানান, আগামী ২৭ জানুয়ারী পর্যন্ত প্রায় সব রুম বুক করা হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আরও পর্যটক আসবেন।

 

আরও পড়ুন: পর্যটকে মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

 

খাগড়াছড়ি টুরিস্ট পুলিশের জোন ইনচার্জ জাহিদুল কবির জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। তারা পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ঘুরতে সহযোগিতা করছেন। জেলার জেলা পুলিশও পর্যটকদের সহায়তা করছে। এছাড়া সাজেকগামী পর্যটকদের ভ্রমণের সহায়তাও করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

 

অপর দিকে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংহ্লামং চৌধুরী জানান, পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পর্যটন মোটেল কাজ করছে।

 

খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক ক্যউসিং মারমা জানান, সাপ্তাহিক ছুটিতে আলুটিলা ও জেলা পরিষদ পার্কসহ সব পর্যটন কেন্দ্রে ৫ থেকে ৮ হাজার পর্যটক সমাগম হয়।

 

বর্তমানে খাগড়াছড়ি একটি পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত। ভবিষ্যতে আরও বেশি পর্যটকের আগমন নিশ্চিত করতে প্রশাসন পর্যটন স্পটগুলোতে সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর কাজ করবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন