সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আগরতলার সহকারী হাইকমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যক্রম সামায়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
এর আগে রোববার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এবং স্থানীয় কয়েকটি সংগঠনের কর্মীরা বিশাল প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে ভিসা আবেদন কেন্দ্রের সামনে পৌঁছান। এ সময় ভিসা কেন্দ্রের বাইরে ভাঙচুর চালানো হয়। ছিঁড়ে ফেলা হয় ফ্লেক্স এবং ভেঙে দেয়া হয় কেন্দ্রের সাইনবোর্ড। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিষেবা বন্ধ করে দেয়।
রোববার রাতের উত্তেজনার রেশ বজায় ছিল সোমবার সকালেও। এদিন সকালে বাঘাযতীন পার্ক ময়দান থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি কাছারি রোড হয়ে হাসমিচকে পৌঁছালে সেখানে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করা হয়। এর ফলে শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ গিয়ে অবরোধ সরিয়ে দিলে মিছিলটি পুনরায় সেবক রোডের দিকে অগ্রসর হয় এবং ভিসা কেন্দ্র ঘেরাও করে।
বিক্ষোভকারীরা এদিন অভিনব ও উগ্র পন্থায় প্রতিবাদ জানান। বাংলাদেশে দীপু দাসকে যেভাবে গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, তার অনুকরণে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা একটি গাছে ঝুলিয়ে দাহ করা হয়। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি— বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত থেকে চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা সেন্টার
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি লক্ষ্মণ বনসল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর যে অমানবিক অত্যাচার চলছে, তা আর সহ্য করা হবে না। একজন নিরপরাধ মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নেমেছি। কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।’
পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে শিলিগুড়ি জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা থাকায় ভিসা কেন্দ্রের সামনে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।

৩ সপ্তাহ আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·