শনিবার (২৮ মার্চ) পেরুর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে সেনেগালের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ সমর্থকদের সামনে ট্রফি নিয়ে উপস্থিত হন। অধিনায়ক কালিদু কৌলিবালি দলকে নিয়ে ল্যাপ অব অনার দেন, আর গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডি ট্রফি উঁচিয়ে ধরলে গ্যালারিতে করতালির ঝড় ওঠে। পুরো দল ট্রফি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলে, যা স্পষ্ট করে যে তারা কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ।
সিএএফ টুর্নামেন্টের ফলাফল পরিবর্তন করার মাত্র ১০ দিনের মাথায় এই ঘটনা ঘটেছে। জানুয়ারিতে আফকন ফাইনালে সেনেগাল ১-০ গোলে জয় পেলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এখন সেই শিরোপা তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কোর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে। তখন সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও প্রতিবাদস্বরূপ খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যেতে নির্দেশ দেন। কারণ, ভিএআর দেখে শেষ মুহূর্তে মরক্কোর পক্ষে ব্রাহিম দিয়াজকে ফাউলের জন্য পেনাল্টি দেওয়া হয়। যদিও সাদিও মানে সহখেলোয়াড়দের বুঝিয়ে ১৭ মিনিট পর আবার মাঠে ফেরান, তবুও নিয়ন্ত্রকদের চোখে সেই ঘটনাই বড় হয়ে দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের শেষ ধাপে টিকিট বিক্রির সময় ঘোষণা করলো ফিফা
ম্যাচ পুনরায় শুরু হওয়ার পর পাপে গুইয়ে অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করেন। এর আগে নানা নাটকীয়তার পর দিয়াজ পেনাল্টি মিস করেছিলেন। কিন্তু পরে সিএএফের আপিল বোর্ড জানায়, মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়াকে ‘ফরফিট’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ফলে অফিসিয়ালি ম্যাচের ফল ৩-০ গোলে মরক্কোর পক্ষে ঘোষণা করা হয় এবং সেনেগালের শিরোপা বাতিল করা হয়—যা ফুটবল বিশ্বে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সেনেগালিস ফুটবল ফেডারেশন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে (সিএএস) আপিল করেছে এবং এটিকে 'প্রশাসনিক ডাকাতি' বলে উল্লেখ করেছে। ফেডারেশনের সভাপতি আব্দৌলায়ে ফাল আবারও চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি ফিরে পেতে চান। যদিও আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে, তবুও ফেডারেশন ইতোমধ্যেই দলের জার্সিতে দ্বিতীয় তারকা যোগ করেছে, তাদের দাবি অনুযায়ী জয়ের স্মারক হিসেবে।
সিএএফ আপিল বোর্ড তাদের সিদ্ধান্তে বলেছে, 'সিএএফ আফকন নিয়মাবলির ৮৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সেনেগাল জাতীয় দলকে ফাইনাল ম্যাচে ‘ফরফিট’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ফলাফল ৩-০ গোলে মরক্কোর পক্ষে নথিভুক্ত করা হয়েছে।'

২ সপ্তাহ আগে
৪







Bengali (BD) ·
English (US) ·