শিক্ষকের থাপ্পড়ে ফাটলো পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রের কানের পর্দা

৫ দিন আগে
নওগাঁর মহাদেবপুরে শিক্ষকের থাপ্পড়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে কানে ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছে না।

 সম্প্রতি উপজেলার পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাত্র ১২ হাজার টাকা জরিমানা ও ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠে।

 

জানা যায়, ৯ বছর বয়সি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাব্বী হোসেন ও তার এক সহপাঠী বাগবিতণ্ডায় জড়ালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীম রেজা রাব্বীকে ডেকে নেন। এরপর তার বাম কানের ওপর সজোরে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন তিনি। এতে রাব্বীর কান দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলে সে বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানায়।

 

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক আনিসুর রহমান চঞ্চলের কাছে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পরও রক্ত পড়া বন্ধ না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে নওগাঁর একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে নেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার পর রক্ত পড়া বন্ধ হলেও শিশুটি এখন কানে ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

 

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক শামীম রেজা ক্ষমা চান এবং চিকিৎসার খরচ বাবদ ১২ হাজার টাকা দেন। ভবিষ্যতে শিশুটির কানের অস্ত্রোপচার বা অপারেশন প্রয়োজন হলে সেই খরচও তিনি বহন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

 

আরও পড়ুন: নওগাঁয় চার খুনের ঘটনায় অভিযোগের তীর স্বজনদের দিকে, আরও যা জানা যাচ্ছে

 

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাব্বীর মা বলেন, ‘ঘটনার পর ওই শিক্ষক আমার সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেননি। আমার ছেলের চিকিৎসা এখনও চলমান। আমরা অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষক আমাদের ডেকে নিয়ে যান। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক শামীম রেজা ক্ষমা চেয়ে চিকিৎসা খরচ বাবদ ১২ হাজার টাকা দেন এবং ভবিষ্যতে অপারেশন করতে হলে সেই খরচও দেবেন বলে জানান।’

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শামীম রেজার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’

 

তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ছোটখাটো একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা স্থানীয়ভাবে মিটমাট করা হয়েছে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন