শাপলা চত্বরের সেই অভিশাপেই হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে: শিবির সভাপতি

২১ ঘন্টা আগে
শাপলা চত্বরের সেই হত্যাযজ্ঞের অভিশাপেই শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে গভীর রাতে আলো নিভিয়ে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, সেটিই ছিল বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েমের প্রথম পদক্ষেপ।
 

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। খেলাফত আন্দোলন ও ছাত্রশিবির এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।


নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য ও আলেম-ওলামা শূন্য করতে শেখ হাসিনা নীলনকশা করেছিলেন।


তিনি বলেন, ‘সেদিন গভীর রাতে আলো নিভিয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার গোলাবারুদ ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এরপর ২৩৯টি বেওয়ারিশ লাশ গুম করা হয়েছিল। পরে নিরপরাধ আলেমদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিয়ে জেলখানায় নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।’
 

আরও পড়ুন: শাপলা চত্বরে সমাবেশ /হেফাজতের ৫৮ জন নিহত, প্রধান আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা: চিফ প্রসিকিউটর
 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘আওয়ামী লীগের নাটক’ অভিহিত করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের লোকজনকে দিয়ে বিচারের নামে অবিচার করা হয়েছিল।


একই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বলেন, “শাপলা হত্যাকাণ্ডের সময় আপনারা (বিএনপি) রাজপথে নামেননি। বেগম জিয়ার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলনে যোগ দেননি। তখন আপনারা সুপ্ত থেকেও যোগ দেননি, আর এখন আমাদের ‘গুপ্ত’ বলে ডাকেন!”
 

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে মূলত ‘গণভোট’ হয়ে গেছে। গণভোটের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে লড়াই চলবে।


খেলাফত আন্দোলনের নেতা মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, সেদিন রাত আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে অতর্কিত হামলা শুরু হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর লাশ সরিয়ে গরম পানি দিয়ে রাস্তা ধুয়ে রক্ত মুছে ফেলা হয়েছিল।
 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শাপলা চত্বরের ঘাতকদের যদি কোথাও পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়, তবে দেশে আরেকটি বিপ্লব ঘটবে।
 

আরও পড়ুন: শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ: ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে


শিবিরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাফেজ দেলওয়ার হোসেন ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের তালিকা ও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞের রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানান।


বক্তারা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে জুলাই মাসের মধ্যেই শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় ছাত্র-জনতা রাজপথে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। সমাবেশে খেলাফত আন্দোলন ও শিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বহু হতাহতের অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকে ইসলামি দলগুলো ৫ মে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন