শাকসু নির্বাচন স্থগিত: বিক্ষোভে জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে হলের ভিপি প্রার্থী

৩ দিন আগে
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে আন্দোলনরত অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এক ভিপি প্রার্থী। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অসুস্থ ওই শিক্ষার্থীর নাম খলিলুর রহমান চাঁদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী এবং আসন্ন হল সংসদ নির্বাচনে বিজয় ২৪ হলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী।

 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় শাকসু নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল ও আইসিটি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন খলিলুর রহমান চাঁদ। সহপাঠীরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালটির নিউরোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

 

আগামী ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কারণে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের সাংগঠনিক নির্বাচন স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ঘোষণার পরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস।

 

আরও পড়ুন: নির্ধারিত সময়ে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা পরিকল্পিতভাবে ‘শাকসু বানচাল’ করার ষড়যন্ত্র করছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘জনতা জনতা’ স্লোগানে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে তোলেন। তারা জানান, ২৮ বছরের অচলায়তন ভেঙে যখন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তখন এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হবে না।

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের নিশ্চয়তা না পেলে এদিনের ভর্তি পরীক্ষা হতে দেয়া হবে না।

 

বিক্ষোভে অংশ নেয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভাইয়ের রক্ত গরম থাকা অবস্থায় আমরা কোনো ষড়যন্ত্র মানব না। প্রশাসন যদি দ্রুত নির্বাচন বহালের সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে ভর্তি পরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম অচল করে দেয়া হবে।’

 

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের উপসচিব স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সব পেশাজীবী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের নির্বাচন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথা, এর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সংঘর্ষ নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন