রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি বাবু নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর বাবা বেল্লাল হোসেন চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত তিন দিন টানা অভিযান চালায়। প্রথমে ঢাকার দোহার এলাকা থেকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী শাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওমর ফারুক ও রাকিব নামে আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা মাহফুজ এখনো পলাতক রয়েছেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, ভিকটিম বাবু ও মাহফুজ একত্রে ইয়াবা সেবন করতেন। বাবুর কাছে মাহফুজ কিছু টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা আদায় এবং বাবুর মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিতে মাহফুজ ও শাহেদ চক্রান্ত করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শাহেদ ইয়াবা সেবনের কথা বলে বাবুকে ডেকে দিঘির পাড়ের এক নির্জন বাগানে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই কাঠের মুগুর নিয়ে অন্ধকারে ওত পেতে ছিলেন মাহফুজ। বাবু ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই মাহফুজ তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করেন। বাবু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ঘাতকরা চাদর দিয়ে তাঁর মাথা প্যাঁচিয়ে এবং গলা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: ঘরের আঁড়ায় ঝুলছিল ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী, মেঝেতে মেয়ের মরদেহ
হত্যাকাণ্ডের পর মাহফুজ বাবুর পকেট থেকে বাইকের চাবি, ঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এরপর দুজনে মিলে মরদেহটি কাঁধে করে নিয়ে পাশের একটি টয়লেটের সেফটি ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেন। হত্যাকাণ্ড শেষে তাঁরা চোরাই মোটরসাইকেল ক্রেতা ওমর ফারুককে ডেকে এনে বাবুর বাইকটি তাঁর হাতে বুঝিয়ে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
উল্লেখ্য, নিখোঁজের আট দিন পর গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর এলাকার জনৈক কিরণের বাড়ির সেফটি ট্যাংক থেকে বাবুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামি মাহফুজকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
]]>

৪ সপ্তাহ আগে
৪







Bengali (BD) ·
English (US) ·