রোহিঙ্গাদের জন্য চাহিদাভিত্তিক খাদ্য সহায়তা চালু ডব্লিউএফপির

১ সপ্তাহে আগে
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন চাহিদাভিত্তিক খাদ্য সহায়তা পদ্ধতি চালু করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও নোয়াখালীর ভাসানচরে বসবাসরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে পরিবারভেদে খাদ্য নিরাপত্তার অবস্থা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ডব্লিউএফপি থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।


মূলত নতুন পদ্ধতিতে চরম খাধ্য নিরাপত্তাহীন পরিবারগুলো কক্সবাজারে জনপ্রতি ১২ ডলার (ভাসানচরে ১৩ ডলার), তীব্র ঝুঁকিতে থাকা পরিবার ১০ ডিলার (ভাসানচরে ১১ ডিলার) এবং অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিতে থাকা পরিবার ৭ ডলার (ভাসানচরে ৮ ডলার) সহায়তা পাবে।


ডব্লিউএফপি জানায়- কক্সবাজার ও ভাসান চরে বসবাসকারী প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মাসিক খাদ্য সহায়তার জন্য তার লক্ষ্য নির্ধারণ ও অগ্রাধিকার অনুশীলন (টিপিই) বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা তাদের জন্য চাহিদা-ভিত্তিক সহায়তার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।


টিপিই-র বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, যদিও সব রোহিঙ্গা শরণার্থীই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তবে পরিবারভেদে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা ভিন্ন। নতুন এই পদ্ধতির অধীনে, পরিবারভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।


কক্সবাজারে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারগুলো প্রতি মাসে জনপ্রতি ১২ মার্কিন ডলার পেতে থাকবে (ভাসান চরে ১৩ মার্কিন ডলার, যা সেখানকার উচ্চ বাজারমূল্যকে প্রতিফলিত করে)। তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারগুলো ১০ মার্কিন ডলার (ভাসান চরে ১১ মার্কিন ডলার) এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারগুলো ৭ মার্কিন ডলার (ভাসান চরে ৮ মার্কিন ডলার) পাবে। খাদ্য ঘাটতি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে, সর্বনিম্ন পরিমাণ অর্থ সহায়তা হিসাবেও ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট।


আরও পড়ুন: খাদ্যে সহায়তা কমায় রোহিঙ্গাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

এ পদ্ধতিটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী সর্বোত্তম অনুশীলনের প্রতিফলন ঘটায়। মৌলিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে সবচেয়ে বড় বাধার সম্মুখীন পরিবারগুলো-যার মধ্যে রয়েছে শিশু-পরিচালিত পরিবার, কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষবিহীন নারী ও বয়স্ক-পরিচালিত পরিবার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিযুক্ত পরিবার-সর্বোচ্চ স্তরের সহায়তা পেতে থাকে। এই সমন্বয় সমগ্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি আমাদের অব্যাহত অঙ্গীকারের প্রতিফলন। 


‘আমরা শিবিরগুলোতে থাকা প্রত্যেককে খাদ্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখব, তবে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদেরকেই সর্বোচ্চ স্তরের সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রাখব। ডব্লিউএফপি-র খাদ্য ঘাটতি বিশ্লেষণ আমাদের দেখায় যে, প্রত্যেকেই তাদের ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে,’ বলেছেন ডব্লিউএফপি-র ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট।


যদিও তহবিল সংক্রান্ত বিবেচনার দ্বারা চালিত নয়, টিপিই মানবিক খাদ্য চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে খাদ্য সহায়তার আরও কার্যকর, ন্যায়সঙ্গত এবং আনুপাতিক বণ্টনকে সমর্থন করে। এই পদ্ধতিটি রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের জন্য যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার (জেআরপি) সামগ্রিক কার্যকারিতায় অবদান রাখে, বিশেষ করে বৈশ্বিক তহবিল সীমাবদ্ধতার এমন একটি প্রেক্ষাপটে যেখানে জীবন রক্ষাকারী সহায়তার সতর্ক অগ্রাধিকার প্রয়োজন।


টিপিই চলাকালীন, খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদা বিষয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য ডব্লিউএফপি তাদের সাথে পরামর্শ করে, যা পরবর্তীতে বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বোঝাপড়া ও গ্রহণযোগ্যতা সহজতর করার জন্য ১ মার্চ থেকে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


টিপিই-এর মাধ্যমে, এবং সাম্প্রতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবদানের জন্য ধন্যবাদ, যা ওসিএইচএ-পরিচালিত বাংলাদেশ হিউম্যানিটেরিয়ান ফান্ডের মাধ্যমে হয়, পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য উদার দাতাদের অব্যাহত সহায়তার জন্য, ডব্লিউএফপি ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য অব্যাহত খাদ্য সহায়তা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।


মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তীব্র সংঘাত থেকে পালিয়ে আসা ২০২৪ সাল থেকে প্রায় দেড় লক্ষ নতুন রোহিঙ্গা সহ সমগ্র রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মাসিক খাদ্য সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএফপি) পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী নারীদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি সহায়তা, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং স্থিতিস্থাপকতা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর মাধ্যমে পরিবারগুলোকে তাদের অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা মেটাতে সাহায্য করা হয় এবং একই সাথে সম্প্রদায়ের সক্ষমতা শক্তিশালী করা হয়। আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র কৃষকরাও স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ক সহায়তা লাভ করেন, যার ফলে তারা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রোহিঙ্গা কার্যক্রমের জন্য ডব্লিউএফপি-র খাদ্য সহায়তা সরবরাহ শৃঙ্খলের সাথে আরও শক্তিশালী সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জিম্মি ৭ রোহিঙ্গা উদ্ধার

‘আমাদের সকল সহযোগীর অবিচল সমর্থনের জন্য ডব্লিউএফপি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাদের সংহতি ও উদারতার কারণেই আগামী মাসগুলোতে আমাদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ব্যাহত হবে না। তবে, নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা অপরিহার্য,’ পার্চমেন্ট আরও বলেন।


একটি স্থায়ী সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত, জীবন বাঁচাতে এবং মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে রোহিঙ্গাদের আমাদের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন