রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচের শেষ বলে জয় তুলে নিলো সিলেট

২ সপ্তাহ আগে
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রোমাঞ্চকর এক ম্যাচের সাক্ষী হলেন দর্শকরা। শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্স। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ১ উইকেটে হারিয়ে আসরের প্রথম জয়ের স্বাদ নিলো সিলেট।

একটা সময় মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা বোধহয় অনায়াসেই জিতে যাচ্ছে সিলেট টাইটান্স। তবে ১৮তম ওভারে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের চিত্রপট পাল্টে দেন মেহেদী হাসান রানা। শেষ ২ ওভারে তখন সিলেটের জয়ের জন্য দরকার ১৯ রান। ১৯তম ওভারে মাত্র ৬ রান খরচ করেন হাসান মাহমুদ। শেষ ওভারে দরকার আরও ১৩ রান, প্রথম দুই বল ডট এবং তৃতীয় বলটা করেন নো। ফ্রি হিটে ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনেন ইথান ব্রুকস। পরের বলে আরও একটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। শেষ ২ বলে যখন ২ রান দরকার, তখনই রানআউটে কাটা পড়েন ব্রুকস। পরের বলটা ওয়াইড হলে শেষ বল থেকে দৌড়ে ১ রান নিয়ে ১ উইকেটের জয় পায় সিলেট টাইটান্স।

 

১৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩৪ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সিলেট টাইটান্স। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন আগের ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরি করা পারভেজ হোসেন ইমন। তাকে অবশ্য যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬০ রান করে ইমন বিদায় নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিদায় নেন আফিফ হোসেন ধ্রুব, তার কিছুক্ষণ পর সাজঘরে ফেরেন মিরাজও। 

 

এরপর নাসুম, খালেদ, আমির ফিরেছেন দ্রুতই। শেষ ওভারে দুই বাউন্ডারি মেরে জয়ের পথ সহজ করেন ইথান ব্রুকস। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ১ উইকেটের জয় পায় সিলেট টাইটান্স। অন্যদিকে দুই ম্যাচের দুটিতেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়লো নোয়াখালী এক্সপ্রেস। 

 

আরও পড়ুন: জাকির সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলো ঢাকা ক্যাপিটালস

 

এর আগে ৪১ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে সিলেট টাইটানসকে জেতাতে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। কাজটা অবশ্য সহজ করে দিয়েছিলেন বোলাররাই—খালেদ আহমেদ ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। 

 

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে খুব একটা ভালো শুরু পায়নি নোয়াখালী এক্সপ্রেস। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৯ রান যোগ হতেই টপ-অর্ডারের ৩ ব্যাটারকে হারায় তারা। এরপরর কমে যায় তাদের রানের গতি। কচ্ছপ গতিতে ব্যাট করা নোয়াখালী দেড়শ রানের পথে ছিল। খালেদ শেষ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। সিলেট পেসার হ্যাটট্রিটের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন। শেষ ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে তার শিকার হন যথাক্রমে জাকের আলী অনিক ও রেজাউর রহমান রাজা। শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক হয়নি, খালেদ শেষ দুই বলে দেন ৭ রান। 

 

আরও পড়ুন: রাজশাহীকে মাটিতে নামালো ঢাকা

 

মোহাম্মদ আমির মাজ সাদাকাতকে প্যাভিলিয়নে ফেরানোর পর খালেদ নিয়েছিলেন হাবিবুর রহমান সোহান ও হায়দার আলির উইকেট। এই তিন ব্যাটারই রানের খাতা খুলতে পারেননি; সাদাকাত ডাক মারেন ১ বলে, হাবিবুর ২ ও হায়দার ৩ বলে। 

 

নোয়াখালী অধিনায়ক সৈকত আলী আগের ম্যাচে ভালো করতে পারেননি, ৪ বল করেছিলেন ৪ রান। আজকের ২৯ বলে ২৪ রানের ইনিংসটি কি তার চেয়েও খারাপ হলো না? 

 

এরপর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও খেলেছেন ধীরগতিতে। ফিফটি পূর্ণ করা এই ব্যাটার ৫১ বলে ৬১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। নোয়াখালীর ১৪৩ রানের সংগ্রহ অনেকটাই জাকের আলীর ক্যামিওতে। উইকেটরক্ষক এই ব্যাটার খালেদের শিকার হন ১৭ বলে ২৯ রান করে।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন