রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিরিয়ায় সংখ্যালঘুদের উপর "হত্যাযজ্ঞ" চালানো "মৌলবাদী ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের" বিরুদ্ধে নিন্দা জানান এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আহ্বান জানান।
রুবিও একটি বিবৃতিতে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে মানুষ হত্যা করার জন্য বিদেশি জিহাদি সহ উগ্র ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিন্দা জানায়। "
তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র খ্রিস্টান, দ্রুজ, আলাউয়ি এবং কুর্দি সম্প্রদায় সহ রয়েছে সিরিয়ার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের পাশে আছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।"
তিনি আরও বলেন, "সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সিরিয়ার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এসব গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে হবে।"
ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদের অনুগত বন্দুকধারীরা নতুন নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা করার পর সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরু হয়। বাশার আল-আসাদ আলাউয়ি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য।
যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস পরবর্তীতে প্রতিবেদন করে, নিরাপত্তা বাহিনী এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলি লাতাকিয়া এবং তর্তুস প্রদেশে কমপক্ষে ৭৪৫ জন আলাউয়ি নাগরিককে হত্যা করেছে।
অন্তরবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা হত্যাযজ্ঞের ঘটনার পর জাতীয় সহাবস্থানের আহ্বান জানান। তিনি সুন্নি ইসলামিক গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা আসাদকে দ্রুত ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযান পরিচালনা করে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে, যুক্তরাষ্ট্র শারার সাথে যোগাযোগ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলে, যে কোনও বড় ধরনের স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহ কিছু শর্ত পূরণের উপর নির্ভর করবে।
তখনকার নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, ডনাল্ড ট্রাম্প সেসময় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই এবং তাদের সেসব বিষয় থেকে দূরে থাকা উচিত। আর তিনি এর আগে ইসলামিক স্টেট-এর জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সেখান থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহার করার কথা বলেছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়া সম্পর্কে সামান্যই কথা বলেছে। তবে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বেসামরিক নাগরিকদের সহায়তা করা সংগঠনগুলোর জন্য আর্থিক সাহায্য ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবার আসাদ যুগে সিরিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণায় ব্রিটেনের সাথে যোগ দেয়নি।