রাশিয়ার স্টারলিঙ্ক ব্যবহার নিয়ে কড়া বার্তা পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর, জবাবে যা বললেন ইলন মাস্ক

২ সপ্তাহ আগে
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিঙ্কের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সরাসরি টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ককে উদ্দেশ করে বলেন, রাশিয়া যেন স্টারলিঙ্ক ব্যবহার করে ইউক্রেনের শহরগুলোতে হামলা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

সিকোরস্কির অভিযোগ, রাশিয়ার ‘গেরান’ ও ‘মোলনিয়া’ ড্রোন ব্যবহার করে হামলায় লক্ষ্য নির্ধারণের কাজে স্টারলিঙ্ক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্টারলিংকের মতো একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি কীভাবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে।

 

এর জবাবে ইলন মাস্ক বলেছেন যে, স্টারলিঙ্ক বর্তমানে ‘ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড’ হিসেবে কাজ করছে। তবে রাশিয়ার সম্ভাব্য অপব্যবহার ঠেকাতে সেবা বন্ধ বা সীমিত করার দাবির কড়া প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক মন্তব্যে ইলন মাস্ক পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিকোরস্কিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। এতে কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানির ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি কীভাবে এবং কার দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্পষ্ট নীতিমালার প্রয়োজনীয়তাও জোরালোভাবে সামনে আসছে।

 

আরও পড়ুন: ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে ফ্রান্স

 

এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার জোরদার হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের খারকিভ ও ওডেসায় রাশিয়ার রাতভর ড্রোন ও মিসাইল হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।

 

এর মধ্যেই, চলতি মাসে ইউক্রেনের ৫০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি দখলের দাবি করেছেন রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। এদিকে কিয়েভে নিরাপত্তা দেয়ার বিনিময়ে দনবাস থেকে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে পুরোপুরিভাবে সরে আসার শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এমন অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে হোয়াইট হাউস।

 

ইউক্রেন যুদ্ধবন্ধে একের পর এক বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। অংশ নিচ্ছে রুশ প্রতিনিধি দলও। এত আলোচনার পরও আক্রমণাত্মক আচরণ থেকে সরে আসছেনা রাশিয়া। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইউক্রেনের দক্ষিণের বন্দরনগরী ওডেসায় রাতভর রুশ ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।

 

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, আহতদের মধ্যে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীও আছেন। এ হামলায় আবাসিক ভবন, একটি গির্জা, কিন্ডারগার্টেন ও একটি উচ্চবিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, একটি জ্বালানি স্থাপনাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

আরও পড়ুন: ইউক্রেনে হামলা জোরদার রাশিয়ার, আরও ৫০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি দখলের দাবি

 

এর আগে খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহর ও আশপাশের অঞ্চলের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় মেয়রের জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট একটি স্থাপনা লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। ১৬টি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। বারবার বিমান হামলার আশঙ্কায় ব্যাহত হচ্ছে মেরামত কাজও।

 

জানুয়ারিতে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানিয়েছেন, চলতি মাসেই ১৭টি বসতি দখল করে ৫০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গেরাসিমভ ইউক্রেনে লড়াইরত পসচিমাঞ্চলের সেনাদের পরিদর্শন করেছেন।

 

ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, ভবিষ্যতে মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার শর্ত হিসেবে ইউক্রেনকে দনবাসের যে অংশ এখনো কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সেখান থেকে ইউক্রেনীয় সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা।

 

প্রতিবেদনে আটজন অবগত সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নিরাপত্তা গ্যারান্টি পেতে হলে ইউক্রেনকে শান্তি চুক্তিতে সম্মত হতে হবে, যার মধ্যে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক থেকে প্রত্যাহারের শর্তও যোগ হতে পারে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি প্রতিবেদনটি ভুল বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র ভূমিকা দুই পক্ষকে আলোচনায় বসানো।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন