বিশ্বে প্রতিদিন ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি তেলের চাহিদার বিপরীতে রাশিয়ার উৎপাদন প্রায় ১০ মিলিয়ন ব্যারেল। অর্থাৎ ১০ শতাংশ তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মস্কো। যার সিংহভাগেরই ক্রেতা চীন, ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলো।
তবে বাংলাদেশের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশের যোগান মেটায় সৌদি আরব ও আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্য। কিন্তু ইরান যুদ্ধে দেশগুলোর উৎপাদন ব্যাহত ও হরমুজ প্রণালি বন্ধে তৈরি হয়েছে সংকট। এমন অবস্থায় শিল্পে জ্বালানি নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিয়ে দূরদর্শী পরিকল্পনা চান উদ্যোক্তারা।
এফবিসিসিআইর সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ইরানের বাধার সম্মুখীন হওয়া দেশগুলো থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। বাংলাদেশকে তারা বাধা দিচ্ছে না। সুতরাং তেল নিয়ে আমাদের অস্থির হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। তেলের কারণে আমাদের দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে, তার আশঙ্কা কম।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে বহির্বিশ্বে তেলের দাম যদি অনেক বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে হয়তো আমাদের পক্ষে কষ্টকর হবে। আমাদের খরচ বেড়ে যাবে।’
বিটিএমএর সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান বলেন, ‘আমাদের নিজেদের জ্বালানি সক্ষমতা খুবই কম। পুরোটাই আমদানি নির্ভর। এই মুহূর্তে বিদেশ থেকে এলএনজি বা ডিজেল আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস এবং বিদ্যুৎ যাতে পায়, সেজন্য সরকারকে সেদিকেই মনযোগী হতে হবে। সরকার যে বিনিয়োগ করবে, সেখানে যাতে ভবিষ্যতে এমন সমস্যায় পড়লেও আমাদের অর্থনীতি থেমে যাবে না সেই চিন্তা করতে হবে।’
আরও পড়ুন: ডিজেল সংকটে কক্সবাজারে থমকে আছে সাগরে মাছ ধরা
বিপিসির তথ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৭ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে এসেছে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল।
বাস্তবতার নিরিখে মজুত ঠিক রাখতে রাশিয়ার তেল কেনার কথা ভাবছে বাংলাদেশও। এক্ষেত্রে রুশ জ্বালানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাময়িক ছাড় চেয়েছে সরকার। তবে এক্ষেত্রেও আছে বিপত্তি। কেবল মধ্যপ্রাচ্যের হালকা তেল পরিশোধন করতে পারে ইস্টার্ন রিফাইনারি। রুশ কিংবা ভেনেজুয়েলার মতো ভারি ক্রুড পরিশোধনের সক্ষমতা নেই দেশের একমাত্র তেল পরিশোধন প্রতিষ্ঠানটির। যে সক্ষমতা থাকায় রুশ তেলে ভারত সুবিধা নিতে পারলেও, বাংলাদেশের বেলায় সন্দিহান বিশ্লেষকরা।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে, সেটা দিয়ে রশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারব না। তাই রাশিয়া থেকে কিনে ভারতের মাধ্যমে পরিশোধন করে যদি বাংলাদেশে আমদানি করি, তাহলে এটা একটা উপায়। কারণ ভারতের মধ্যে পরিশোধনের সেই সক্ষমতা রয়েছে। আমরা তৃতীয় দেশ হয়ে তেল আমদানি করতে পারি, তাহলে সমস্যা হবে না।’
রাশিয়ার জ্বালানিতে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় পেলে, সরাসরি পরিশোধিত তেল কেনার পরামর্শও তাদের।
]]>
২ দিন আগে
৪







Bengali (BD) ·
English (US) ·