রানা প্লাজা থেকে গ্রিন ফ্যাক্টরির গরিমা: কতটুকু বদলাল শ্রমিকের জীবন?

৪ দিন আগে
রানা প্লাজার সেই ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই শুরু হয়েছিল পরিবর্তনের এক কঠিন লড়াই। স্বজন হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বাংলাদেশের পোশাক খাত আজ বিশ্বজুড়ে নিরাপদ কর্মপরিবেশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১০ বছর আগে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার পথ ধরে আজ বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’র অর্ধেকই বাংলাদেশের মালিকানায়। কিন্তু কর্মপরিবেশে এই বিশাল অর্জনের সমান্তরালে শ্রমিকদের ভাগ্যের কতটা পরিবর্তন হলো–মহান মে দিবসে সেই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংকটের পাহাড় পেরিয়ে নিরাপত্তার জয়গান এক সময় বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো ছিল জীবনের ঝুঁকিতে পূর্ণ। কিন্তু রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর প্রায় ৩ হাজার ৭৮০টি কারখানা পরিদর্শন ও সংস্কারের মাধ্যমে বদলে গেছে দৃশ্যপট। শ্রমিকরা এখন আগের চেয়ে নিরাপদ ভবনে কাজ করছেন। তবে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ভবনের নিরাপত্তা বাড়লেও শ্রমিকের পেটের নিরাপত্তা অর্থাৎ ‘ন্যূনতম মজুরি’ নিশ্চিতে এখনও স্থায়ী কোনো মজুরি কমিশন গঠন করা হয়নি।
 

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিনের মতে, সস্তা শ্রম আর অব্যবস্থাপনার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির নব্য ধনিক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক মালিক এখনও আইনকানুনের তোয়াক্কা করেন না; মাসের পর মাস বেতন বাকি রাখা বা হুট করে কারখানা বন্ধ করে দেয়ার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। তার ভাষায়, শ্রমিকের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে মুনাফা লোটার মানসিকতা এখনও রয়ে গেছে।
 

আরও পড়ুন: চাঁদা না দেয়ায় কারখানায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
 

সময়ের দাবি কেবল নিরাপদ ভবনই নয়, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের জন্য শ্রমিকের সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে দক্ষতা উন্নয়ন ও অপচয় কমানোর বিকল্প নেই। দক্ষতা বাড়লেই কেবল শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভা প্রধান তাসলিমা আখতার সরকার, মালিক ও শ্রমিক–এই তিন পক্ষের সমন্বিত তদারকির ওপর জোর দিয়েছেন।
 

বাজারে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ শ্রমিকরা। তাদের সোজাসাপ্টা দাবি–বেতন যেন বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে শ্রমিকদের চাওয়া, কেবল রাজনৈতিক বিপ্লবে তাদের ব্যবহার না করে যেন প্রকৃত অর্থে অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
 

আরও পড়ুন: শ্রমিক অসন্তোষে রণক্ষেত্র ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ইউএনওকে উদ্ধার করলেন এমপি
 

এক শ্রমিক বলেন, জিনিসপত্রের যে দাম এই বেতনে সংসার চালানো যায় না। আরেক শ্রমিক বলেন, ‘সরকারের কাছে প্রত্যাশা– আমাদের বেতনটা যেন বাড়ানো হয়।’
 

সস্তা শ্রমের তকমা মুছে বাংলাদেশ কি পারবে দক্ষ শ্রম ও নিরাপদ বিনিয়োগের বৈশ্বিক রোল মডেল হতে? মে দিবসের এই লগ্নে সেই সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন লাখো শ্রমিক।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন