মিয়ানমারে যতই নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে জান্তা বাহিনীর দমনপীড়ন। চলতি সপ্তাহে দেশটির কায়াহ প্রদেশের মাওচি শহরে জান্তার ভয়াবহ বিমান হামলায় ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালেও যুদ্ধবিমান থেকে মাওচিতে বোমা বর্ষণ করে জান্তা বাহিনী।
এখানেই শেষ নয়, চলতি বছরের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় জান্তা বাহিনী ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ)-এর মাঝে। শর্ত ছিল—উত্তরাঞ্চলের শান প্রদেশের লাশিও ও আশপাশের এলাকা ছাড়বে এমএনডিএএ গোষ্ঠী, আর বিমান হামলা বন্ধ করে অঞ্চলটিকে স্বশাসিত মর্যাদা দেবে জান্তা।
এরপর বিদ্রোহীরা এপ্রিলেই লাশিও ফিরিয়ে দিলেও প্রতিশ্রুতির অর্ধেকও রক্ষা করেনি জান্তা সরকার। এমএনডিএএ-এর অভিযোগ, বারবার যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা চালাচ্ছে সেনারা। এরপর চলতি মাসে পুনরায় আলোচনায় বসে দু’পক্ষ। বৈঠকে এমএনডিএএ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলকে ‘স্পেশাল রিজিওন ১’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে জান্তা সরকার।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে নির্বাচন: ভোটে ব্যাঘাত ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড!
কোনো সমঝোতা না আসায় অস্ত্রবিরতি চুক্তিও ভেস্তে গেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।
এত কিছুর মাঝেও দেশজুড়ে সমর্থন আদায়ের প্রচারণা চালাচ্ছেন মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। সম্প্রতি ম্যাগওয়ে সফরে সেনাসদস্য, তাদের পরিবার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ সময় সবাইকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
পাশাপাশি, ২০২১ সালে ক্ষমতাচ্যুত অং সান সু চি’র দল এনএলডি’র কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। জান্তা প্রধান আরও জানান, বিজয়ী দল ক্ষমতায় গেলেও পার্লামেন্টে সেনা-নিযুক্তরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সংবিধান রক্ষার দায়িত্বও সেনাবাহিনী পালন করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
]]>