চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তার দেশে ইরানের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত তারা। এদিকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (ফিফা) প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘ড্র অনুযায়ী ম্যাচগুলো যে-সব ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেখানেই খেলা হবে।’
আরও পড়ুন: আক্রমণের পসরা সাজিয়েও সিঙ্গাপুরের কাছে হারল বাংলাদেশ
৪৮ দল নিয়ে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন ‘জি’ গ্রুপে ইরানের প্রথম ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, লস অ্যাঞ্জেলেসে। একই ভেন্যুতে ইরানের পরের ম্যাচ খেলার কথা বেলজিয়ামের বিপক্ষে। আর ২৭ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলার কথা ইরানের।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। তবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো সংশয় নেই।
ফিফা সভাপতি বলেন, ‘ইরান বিশ্বকাপে খেলবে … সেজন্যই আমরা এখানে এসেছি।’ তুরস্কে অনুষ্ঠিত ইরানের একটি প্রস্তুতি ম্যাচে সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে এ কথা বলেন ইনফান্তিনো। ‘আমরা আনন্দিত, কারণ তারা খুবই শক্তিশালী একটি দল। আমি খুব খুশি। আমি দলটিকে দেখেছি, খেলোয়াড় এবং কোচের সাথে কথা বলেছি, সবকিছু ঠিক আছে।’
আরও পড়ুন: সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে কাবরেরা বললেন— ‘এই ফল মেনে নেওয়া কঠিন’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে ইরানের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া উচিত নয়। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের জবাবে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, বিশ্বকাপ থেকে ইরানের জাতীয় দলকে কেউ বাদ দিতে পারে না।
এদিকে গত ১৯ মার্চ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আয়োজন করতে ফিফা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা আশা করছে যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সকল দল ফেয়ার প্লে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মনোভাব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ফিফা ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের সমাধান করতে পারে না, কিন্তু আমরা ফুটবল এবং বিশ্বকাপের শক্তিকে ব্যবহার করে সেতুবন্ধন তৈরি করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ চলমান যুদ্ধের ফলে যারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে।’
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·