‘যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ নেই’, ‘তীব্র হচ্ছে জ্বালানিসংকট’

১ দিন আগে
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শুক্রবার (৬ মার্চ) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।

 

যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ নেই - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়েছে। যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন গতকাল বৃহস্পতিবারও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। সে অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানও। এদিকে এই যুদ্ধ নিয়ে কোনো কোনো মহল নিন্দা জানালেও এখন পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা বা দুই পক্ষকে আলোচনায় বসানোর কোনো তৎপরতা নেই।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পর্যন্ত ইরানে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলায় মোট ২৬ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া লেবাননে গত সোমবার থেকে ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে ১০২।

 

তীব্র হচ্ছে জ্বালানিসংকট - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে। আর এর ছোবলে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে বাংলাদেশে। জ্বালানি দিয়ে সংকটের সূচনা হতে শুরু করলেও ক্রমেই তা সার্বিক অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তবে এক জ্বালানিসংকটই পুরো অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিতে শুরু করেছে।


 

 


সরকার এরই মধ্যে গ্যাস রেশনিং, বিদ্যুত্ব্যবস্থায় লোড ম্যানেজমেন্ট এবং নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়ের আহবান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম আরো বাড়তে পারে। এতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।


দেশে ডলারের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে - দৈনিক বণিকবার্তায় প্রকাশিত সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের ডলারের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। গত তিনদিনে আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ২০-৩০ পয়সা পর্যন্ত বেড়েছে।

 

আর কার্ব মার্কেটে (খুচরা বাজার) দর বেড়েছে অন্তত ২ টাকা। রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান ও রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধির মধ্যেও ডলারের দরবৃদ্ধির ঘটনায় বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দেড় বছর পর দেশে ডলারের দর উসকে ওঠাকে সংশ্লিষ্টরা বিপদের সংকেত হিসেবে দেখছেন।

 

সংকট এড়াতে বেশি দামে আমদানি করা হচ্ছে জ্বালানি - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট এড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দুটি কার্গো (জাহাজ) কিনেছে সরকার। বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ে মন্ত্রিসভা ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছে।

 

 

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যায়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় ১০ শতাংশ সরবরাহ কমানো হয়েছে। অনেকে ডিজেল কিনে মজুত করছে। সংকটের শঙ্কায় মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। পেট্রল স্টেশনগুলো তেল মজুত করে রাখতে পারে। কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা - দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবর এটি।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝিতে এসে রাজধানীর বাজারে তিন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। পণ্যগুলো হলো-সয়াবিন তেল, চিনি ও ব্রয়লার মুরগি। এর মধ্যে ব্রয়লার মুরগির দাম রমজানের শুরুতে বাড়লেও পরে কমে যায়। এখন আবার দাম বেড়েছে। আর চিনির দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কম থাকলেও গতকাল পণ্যটির দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে দাম কমার তালিকায় রয়েছে-চাল, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ। অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।


 

 


গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরানবাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ছে। এছাড়া, রমজানের মাঝামাঝিতে এসে অনেকে ঈদের জন্য বাড়তি কেনাকাটা করছেন। ফলে কিছু কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়েছে।


তিনশ’ টাকা বাঁচাতে টিসিবি’র ট্রাকের সামনে লড়াই - দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদটিতে বলা হয়েছে, রাজধানী শাহবাগের বারডেম হাসপাতালের সামনে টিসিবি’র ট্রাকের পাশে ক্লান্ত হয়ে বসেছিলেন আয়েশা বেগম। রোজা রেখে টানা তিনঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন পাওয়ার পর রাস্তার পাশে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার খরচ সামলাতে সাশ্রয়ের আশায় পাশের বাসার ভাড়াটিয়া কুলসুমকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। আয়েশা বেগম বলেন, আমার স্বামী দু’দিন ধরে অসুস্থ। কিছু টাকা বাঁচাতে এখানে এসেছি। তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে টোকেন পেয়েছি। এখন কুলসুম আপাকে বলেছি আমার পণ্যগুলো নিতে। যে টাকা সাশ্রয় হবে, তা দিয়ে স্বামীর ওষুধ কিনবো। শুধু আয়েশা নন এমন শত শত মানুষকে ভীড় টিসিবির ট্রাকের পেছনে।


 

 


রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে বিক্রির লক্ষ্যে ১৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাক সেল কর্মসূচি শুরু করেছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি), চলবে ১২ই মার্চ পর্যন্ত। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ, শান্তিনগর, শাহজাহানপুর, উত্তরা, ফকিরাপুলসহ রাজধানীর ৫০টি স্থানে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করেছে টিসিবি। টিসিবি’র সারিতে নিম্নআয়ের মানুষের দাঁড়ানোর কথা থাকলেও দেখা গেছে এই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও। এই ভিড়ের কারণ হলো- টিসিবি’র ট্রাক থেকে পণ্য কিনলে ৩৫০ টাকার মতো বাঁচবে। টিসিবি’র ট্রাকে ২৫০ জন মানুষ পণ্য কিনতে পারেন সাধারণত। টিসিবি বর্তমানে সারা দেশে ৪৫০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল, চিনি, ছোলা ও খেজুর- এই পাঁচটি পণ্যের একটি প্যাকেজ ৫৯০ টাকায় বিক্রি করছে।

 

রাজধানীতে দুর্যোগপূর্ণ বায়ু, সতর্কতা-পদক্ষেপ নেই - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার আকাশ প্রায় প্রতিদিনই ধূসর পর্দায় ঢেকে যাচ্ছে। ধুলা, ধোঁয়া আর বিষাক্ত গ্যাসের মিশ্রণে তিলোত্তমা এই নগরে বুকভরে শ্বাস নেয়াই এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। সেই শীতের শুরু থেকে রাজধানীর বায়ুদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আন্তর্জাতিক সূচকে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীর তালিকায় উঠে আসছে।


 

 


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আড়াই কোটি মানুষের এই নগরের সামনে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অথচ রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা অস্থিরতার ভিড়ে এই পরিবেশগত সংকট তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা। দূষণ নিয়ন্ত্রণে মাঠে কার্যত নিষ্ক্রিয় দুই সিটি করপোরেশন। আগের মতো সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানো হচ্ছে না। দূষণের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত পুরোনো যানবাহন, ইটভাটা কিংবা নির্মাণকাজও চলছে আগের মতো। সরকারি দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।


সৌদি থেকে নারী কর্মীর আর্তনাদ/ ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে মেরে ফেলবে, বাঁচান - দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর এটি। 


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি ভবনের দোতলায় বন্ধ ঘরে গাদাগাদি অবস্থায় অন্তত ২০ জন নারী। কারো কাছে পাসপোর্ট নেই, নেই মোবাইল ফোন। কেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেসব। দরজার বাইরে তালা।

 

 


দিন কাটছে ক্ষুধা আর আতঙ্কে। সেই ‘বন্দিদের’ একজন নওগাঁর ২২ বছরের এক তরুণী। অভাবী সংসারে একটু সুখের বাতি জ্বালাতে জিটুজি চুক্তির আলোকে গৃহকর্মী পদে সুদূর সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি মাস দুয়েক আগে। কিন্তু সেখানে গিয়ে পড়েছেন এক অন্ধকার বন্দিশালায়, যাকে বলা হয় ‘ক্যাম্প’।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন