যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্ত মেনে নেয়নি তেহরান: ইরানি গণমাধ্যম

১৮ ঘন্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। ইসলামাবাদে সফররত ইরানের প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এমন কিছু বিষয় দাবি করেছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি ও আরও বেশ কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্তগুলো তেহরান মেনে নেয়নি।

 

ফার্স নিউজ জানায়, একটি চুক্তির পথে অগ্রগতি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি’ পরিবর্তনের ওপর। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ইস্যুটি এখনো অন্যতম প্রধান বিরোধপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়েছে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই পক্ষের বিশেষজ্ঞরা এখন সমঝোতার জায়গা খুঁজে বের করতে কাজ করছেন এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা মতপার্থক্য কমিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

 

সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স সংবাদ সংস্থা আরও জানায়, আলোচনা থেকে বের হওয়ার একটি অজুহাত খুঁজছিল যুক্তরাষ্ট্র।

 

সূত্রটি জানায়, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্যই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসার পথ খোঁজছিল। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অচলাবস্থার পরও তারা নিজেদের প্রত্যাশা কমাতে রাজি হয়নি।

 

এদিকে ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

 

আরও পড়ুন: আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছার ওপর: ইরান

 

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পর রোববার (১২ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, দীর্ঘ আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।

 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘রেড লাইন’ স্পষ্ট করে দিয়েছে, কিন্তু ইরান ‘আমাদের শর্তে রাজি হয়নি’। আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি, যেখানে ইরান আমাদের শর্তগুলো মেনে নেবে।

 

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় সেই সংলাপ।

 

এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

 

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা, যা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন