যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ২ শিক্ষার্থী হত্যা: কী অপেক্ষা করছে সন্দেহভাজন হিশামের ভাগ্যে?

৬ ঘন্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আদালতে দাখিল করা নথিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক হিশাম আবুঘরবেহ’র বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

ভয়াবহ নৃশংসতায় নিভে গেলো দুটি জীবন প্রদীপ। যাদের প্রাণহীন দেহের কিছু অংশ পেতে প্রতীক্ষার নির্ঘুম প্রহর গুনছেন স্বজনরা। প্রিয় সন্তানের দেহাবশেষ পাওয়াই যেনো এখন তাদের একমাত্র সান্ত্বনা। অন্যদিকে, জোড়া খুনের খড়গ মাথায় নিয়ে মার্কিন কারাগারে ঘাতক হিশাম আবুঘরবেহ।

 

গেলো শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচে জামিল লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার হলেও হদিস মেলেনি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বৃষ্টির সন্ধানে বন জঙ্গল ও জলরাশি চষে বেড়াচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। বৃষ্টির মরদেহ পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়।

 

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ২ শিক্ষার্থীকে হত্যা: বেরিয়ে এলো লোমহর্ষক তথ্য!

 

নাহিদা বৃষ্টির ভাই জানিয়েছেন, হিশামের বাসাতে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে তার বোনের ডিএনএ'র মিল পেয়েছে মার্কিন পুলিশ। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন হিশাম।

 

খুনের নেপথ্যে হিশামের ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে, খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। নৃশংস এ ঘটনায় গ্রেফতার হিশামের বিরুদ্ধে দুটি ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বা পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক প্রহার, অন্যায়ভাবে আটক রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্টের চেষ্টা, মৃত্যুর তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে পুলিশকে তথ্য না জানানো এবং বে-আইনিভাবে মৃতদেহ সরানোর ছয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ২ শিক্ষার্থীকে হত্যা, সর্বশেষ যা জানা গেল

 

ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের আইনে, এই পৈশাচিক অপরাধের শাস্তি হতে পারে বিষাক্ত ইঞ্জেকশনে মৃত্যুদণ্ড অথবা আমৃত্যু কারাবাস। শনিবার ট্যাম্পার আদালতের নথিতে অভিযুক্ত হাশিমের পক্ষে কোনো আইনজীবীর নাম উল্লেখ ছিল না। তবে  হিলসবরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডার অফিস হিশামের পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৮ এপ্রিল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

 

জামিল ও বৃষ্টির হত্যাকারীর সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতসহ তাদের মরদেহ পেতে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মায়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরীন জানিয়েছেন, জামিলের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন