যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যে বার্তা দিলো পাকিস্তান

১৮ ঘন্টা আগে
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনা কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানো ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

আলোচনা শেষ হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। 

 

রোববার (১২ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে এ আহ্বান জানান।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’

 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, পুরো অঞ্চলসহ বিশ্বজুড়ে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখবে। পোস্টে বলা হয়, ভবিষ্যতেও পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও যোগাযোগ সহজ করতে ভূমিকা রাখবে।

 

ইসহাক দার বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টা ধরে দুপক্ষের মধ্যে চলা কয়েক দফার নিবিড় ও গঠনমূলক আলোচনায় আমি নিজে এবং চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির মধ্যস্থতা করেছি।’

 

আরও পড়ুন: বেশ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা, তবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়েছে: ইরান

 

তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করায় আমি উভয় পক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।’

 

এর আগে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলেনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, খারাপ খবর হলো আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর।

 

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে। তবে এখনও ২–৩টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘৪০ দিনের চাপিয়ে দেয়া সংঘাতের পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা অবিশ্বাস ও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে হয়েছে। এক বৈঠকেই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব এমন আশা করা স্বাভাবিক ছিল না। কেউই তা আশা করেনি।’

 

আরও পড়ুন: আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান ছাড়লেন জেডি ভ্যান্স

 

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় সেই সংলাপ।


এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরাইলও।

 

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের জন্য গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানে আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা, যা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন