যশোরে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু, ঝড়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন বহু গ্রাম

১২ ঘন্টা আগে
যশোরে হঠাৎ ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ দুই কৃষক নিহত হয়েছে। টানা আড়াই ঘন্টারও বেশি সময় চলা এই ঝড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আকাশ কালোমেঘে গুমোট আকার ধারণ করে এবং শুরু হয় প্রচন্ড ঝড়। সেই সাথে বজ্রপাত। 


ঝড়ে চৌগাছা উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামে আবু তাহের নামে এক ব্যক্তি বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। বাজার থেকে  বাড়ি ফেরার পথে তিনি মারা যান। এছড়া ঝড়ের সময় মনিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাচ্ছিলেন লুৎফর রহমান সরদার। এসময় বজ্রপাত আঘাত আনলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙে আঁচড়ে পড়ে বিদ্যুুতিক খুঁটির ওপরে। ওই এলাকাসহ ঝাাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবারহ।


এদিকে, কেশবপুরে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে ৯ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ২ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। 


উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: যশোরে নামল স্বস্তির বৃষ্টি

উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি। তার প্রতিষ্ঠানের ছাদের উপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।’ 


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঝড় বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে; সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশাঙ্কা দেখছি না। যশোরে ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ধানের জন্য আশীর্বাদ। তার পরেও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’


যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২ জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, ‘বৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বিদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। অসংখ্য জায়গায় তারের ওপর গাছ পড়ে আছে। আমাদের কর্মীরা রাতেও কাজ করছে। তবে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না।’


জেলা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বজ্রপাতে মনিরামপুরে একজন মারা যাওয়ার খবর আছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সেটা নিরুপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’



 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন