মোস্তাফিজের বাদ পড়া ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’: আকাশ চোপড়া

১ সপ্তাহে আগে
ভারতের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা মেনে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি তারকা মোস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়েছে। বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন ভারতের সাবেক ওপেনার আকাশ চোপড়া।

এবারের মিনি নিলাম থেকে কলকাতা মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯.২ কোটি রুপির বড় অঙ্কে দলে টেনেছিল। তবে শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিসিসিআইয়ের নির্দেশ মেনে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাকে ছেড়ে দেয় এবং বোর্ডের অনুমতিক্রমে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ পায়। বিসিসিআই জানিয়েছে, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলি’র প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার অভিযোগের দিকেই ইঙ্গিত তাদের।


নিলামে কেনার পর কোনো চোটজনিত কারণ ছাড়াই কোনো খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা আইপিএলের ইতিহাসে এই প্রথম। এর আগে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ওপর কার্যত ছায়া-নিষেধাজ্ঞা ছিল।


আকাশ চোপড়া এই সিদ্ধান্তকে বিসিসিআইয়ের ‘ক্ষমতা প্রদর্শন’ বলে অভিহিত করেন এবং মোস্তাফিজকে ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ বা পার্শ্বক্ষতির শিকার বলে মন্তব্য করেন।

 

আরও পড়ুন: মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটিকে ভারতের হিন্দুদের জয় হিসেবে দেখছেন বিজেপি নেতা


একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওতে চোপড়া বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার খবরের কারণেই বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার মতে, এটি সঠিক সিদ্ধান্ত। হ্যাঁ, কলকাতা সমস্যায় পড়বে এবং নিলামের আগেই বিষয়টি হলে ভালো হতো। কিন্তু এটা একটা চলমান পরিস্থিতি। কেউ বলতে পারে, এখানে ফিজের দোষ কী? সে তো সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নয়। কিন্তু একই কথা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও বলা যায়—তারা ব্যক্তিগতভাবে কিছু করে না। তবুও, কোনো দেশ যদি কিছু করে, তার পরিণতি সেই দেশের নাগরিকদের ওপর পড়ে। এটা কোল্যাটারাল ড্যামেজ। আমি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে। এটা সফট পাওয়ার, আর সেটা দেখানো উচিত।’


চোপড়ার মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার অবস্থানকে সমর্থন করলেও, অনেকে ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগ তোলেন। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন—যখন ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে কাজ করছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় পেয়েছেন, তখন এমন সিদ্ধান্ত কতটা ন্যায্য? আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন, ভবিষ্যতে কয়েকজনের ভুলের জন্য কি সব ভারতীয়কেও শাস্তি পেতে হবে?


সব মিলিয়ে, ভারত–বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক বর্তমানে নজিরবিহীনভাবে নিম্নমুখী। দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। জানা গেছে, বিসিসিআই বাংলাদেশ সফরের একটি প্রস্তাবিত সূচি ভারত সরকারের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় স্থগিত রেখেছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ভারত–বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কও ভবিষ্যতে ভারত–পাকিস্তানের মতো সীমিত যোগাযোগের পর্যায়ে চলে যেতে পারে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন