মোস্তাফিজের কাটারে অসহায় ঢাকা, শেষ ওভারে ১০ রানের ব্যর্থতায় হার

১ সপ্তাহে আগে
জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রানের। হাতে পর্যাপ্ত উইকেট, ক্রিজে দুই জাত ব্যাটার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেটা জয়ের জন্য সহজ সমীকরণ। কিন্তু রংপুর রাইডার্সের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের সব সমীকরণ কঠিন করে দিলেন। তার কাটারে পরাস্ত হয়ে মাত্র ৪ রান করতে সক্ষম হন ঢাকা ক্যাপিটালসের দুই ব্যাটার মোহাম্মদ মিঠুন ও সাব্বির রহমান। অবশ্য ১৮তম ওভারেই ঢাকাকে পরাজয় বরণের আগাম বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন কাটার মাস্টার।

তাতে সিলেটে রোববার (৪ জানুয়ারি) বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ১২তম ম্যাচটি ৫ রানের ব্যবধানে জিতে নিয়েছে রংপুর। ১৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ঢাকা থেমেছে ১৫০ রানে। ফিফটির ইনিংসে অপরাজিত থাকলেও হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মিঠুন। রংপুরের ম্যাচ জয়ের নায়ক মোস্তাফিজ ২৩ রান খরচায় নিয়েছেন ১ উইকেট।

 

রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল ঢাকা। একটা সময় মনে হচ্ছিল, সহজ জয়ের পথেই হাঁটছে তারা। কিন্তু কে জানতো, শেষদিকে কাটার মাস্টারের ভেলকিতে একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে তাদের। লক্ষ্যে নেমে ওপেনিং জুটিতেই তারা তুলে নেয় ৫৪ রান। ২২ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রান করে আউট হন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ১৮ বলে ৪ চারের মারে ২০ রান করে কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলকে সহজ জয়ের পথে নিয়ে যেতে থাকেন অধিনায়ক মিঠুন ও সাইফ হাসান। দুজনের জুটিতে আসে ৫৩ রান। ব্যাট হাতে সুবিধা করতে না পারা সাইফ ২৪ বলে ১৫ রান করে দলীয় ১১১ রানে বিদায় নেন। এরপর শামীম হোসেনকে নিয়ে দলকে জয়ের আরও কাছাকাছি নিয়ে যান মিঠুন। হাঁকিয়ে নেন বিপিএল ইতিহাসে নিজের ১২তম ফিফটি। জয়ের জন্য শেষ ১৮ বলে ঢাকার দরকার ছিল ২৫ রানের। এরপরই কাটার মাস্টারের ভেলকি।

 

আরও পড়ুন: বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ডাক পেয়েও কেন খেলেননি নাঈম শেখ?

 

১৮তম ওভারে আক্রমণে এসে মাত্র ২ রান দেন। তাকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন ১০ বলে ১১ রান করা শামীম হোসেন। ১৯তম ওভারে ১৩ রান দিয়েছিলেন আকিফ জাভেদ। তাতে শেষ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন ছিল ১০ রানের। কিন্তু সাব্বির কিংবা মিঠুন কেউই ঠিকঠাক মোস্তাফিজকে খেলতে পারলেন না। ৬ বলের মধ্যে দুই ডেলিভারিতে কোনো রানই বের করতে পারলেন না। বাকি ৪ বলে ৪ রান নিয়েছেন দৌড়ে। তাতে অপ্রত্যাশিত জয় তুলে নেয় রংপুর। ৩৮ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রানের দারুণ এক অপরাজিত ইনিংস খেলার পরও হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মিঠুনকে। ৮ বলে ১ ছক্কা ও ১ চারের মারে ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির। রংপুরের হয়ে মোস্তাফিজ ছাড়াও ১টি করে উইকেট নিয়েছেন খুশদিল শাহ, আলিস আল ইসলাম ও কাইল মেয়ার্স।

 

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান সংগ্রহ করেছিল রংপুর। ৪১ বলে ৭ চারের মারে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ২১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ রানের আগ্রাসী ইনিংসে দলের সংগ্রহ দেড়শ পার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন খুশদিল। এছাড়া ৩৩ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন দাউদ মালান। ঢাকার হয়ে ৩৫ রান খরচায় সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন জিয়াউর রহমান। এছাড়া ১টি করে উইকেট নিয়েছেন ইমাদ ওয়াসিম, তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

 

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের অনুরোধে ভারত থেকে বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলে ভাবছে আইসিসি


এ নিয়ে টানা তৃতীয় হারের তিক্ত স্বাদ পেলো ঢাকা। ৪ ম্যাচে ১ জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে ৬ দলের মধ্যে তাদের অবস্থান পঞ্চম। অন্যদিকে ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে উঠে আসলো রংপুর।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন