মোমের আগুনে কেয়ারটেকারের পুরুষাঙ্গ ঝলছে দেয়া ডিবির সেই ওসি প্রত্যাহার

৬ দিন আগে
চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকার মো. ইউনুস ফকিরকে নির্যাতনের ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের ৩ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি শনিবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল আউয়াল।  


প্রত্যাহারকৃত সদস্যরা হলেন ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম এবং দুই পুলিশ কনস্টেবল মো. কাওসার ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। পাশাপাশি এ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জিয়াউর রহমানকে প্রধান করে এক সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্য প্রতিবেদন দেবে।


ভুক্তভোগী ইউনুস ফকির পিরোজপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের খানাকুনিয়ারি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক এবং পুলিশ অফিসার্স মেসের অস্থায়ী কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) টাকা চুরির অভিযোগে ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইউনুসকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং পাশাপাশি স্পর্শকাতর অঙ্গে মোমের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি গোপন রাখতে প্রথমে তাকে সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।


আরও পড়ুন:  কেয়ারটেকারকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ‘মারধর ডিবির’, ঝলসে দেয়া হয় পুরুষাঙ্গ

পরিবারের দাবি, নির্যাতনের প্রকৃত ঘটনা গোপন রাখতে ইউনুসকে ভিন্ন বক্তব্য দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে তাকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপারের কাছে নেওয়া হলে তিনি বিস্তারিত শুনে মেসের ঝাড়ুদার শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল টাকা চুরির কথা স্বীকার করলে পুলিশ সেই টাকা উদ্ধার করে এবং ইউনুসের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেয়া হয়।


পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বাগত হাওলাদার জানান, ইউনুসের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার পুরুষাঙ্গে পোড়ার আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


অভিযোগের বিষয়ে ডিবির ওসি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত। তবে আমি কোনো নির্যাতন করিনি। আমাদের এক সোর্স রান্নাঘরে নিয়ে মোমবাতি দিয়ে এ কাজ করেছে।’


পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউনুসের চিকিৎসার সব ব্যয় জেলা পুলিশ বহন করবে।’


এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন