স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সুন্দরতলা এলাকার ৩২ বিঘার একটি চিংড়ি ঘেরের মালিকানা ও দখল নিয়ে বিএনপি নেতা পলাশ শেখ এবং মিরাজুল শেখের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ঘেরটির দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে মিরাজুল শেখের পক্ষের ৬ জন এবং পলাশ শেখের পক্ষের ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- মিরাজুল শেখ, হাতেম ফকির, তারিকুল শেখ, রফিকুল শেখ, আলামিন ফকির, হাসান ফকির এবং অপর পক্ষের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পলাশ শেখ ও রামেলসহ আরও একজন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে মো. হাতেম আলী ফকির বলেন, ‘আমরা জমির মালিকের কাছ থেকে হাড়ি (লিজ) দিয়ে ঘেরটি চাষ করছিলাম। কিন্তু পলাশ শেখ গত বছর থেকে এটি দখলের পায়তারা করছিল। তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে ৬ জনকে রক্তাক্ত করেছে এবং কয়েক লাখ টাকার মাছ লুট করেছে।’
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষে নিহত ১, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট
অন্যদিকে পাল্টা অভিযোগ করে পলাশ শেখ বলেন, ‘মিরাজুল ও হাতেম ফকির গত বছর জমির মালিকদের টাকা না দিয়ে জোরপূর্বক ঘেরটি দখল করে রেখেছিল। ২০২৬ সালে মালিকেরা আমাদের কাছে ঘেরটি হাড়ি দিয়েছেন। কিন্তু তারা জোর করে দখল করতে এসে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মোংলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাইন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় দুই পক্ষের মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি এজাহার দাখিল করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

২ সপ্তাহ আগে
৩







Bengali (BD) ·
English (US) ·