মেলা নেই, হালখাতা নেই; নাগরিক আয়োজনে সীমাবদ্ধ বৈশাখ!

২ দিন আগে
প্রকৃতি থেকে বিদায় নিয়েছে শিমুল-পলাশের আগুনরাঙা ফাগুন। ঋতুপরিক্রমায় বাংলা জুড়ে বেজে উঠছে নতুন বছর বরণের সুর। তবে সময়ের বিবর্তনে গাইবান্ধার গ্রামগঞ্জে বর্ষবরণের সেই চিরচেনা রূপ এখন আর আগের মতো নেই। গ্রামীণ ঐতিহ্যের মেলা ও হালখাতার জায়গা দখল করে নিচ্ছে কেবলই যান্ত্রিক নাগরিক আয়োজন।

একসময় সবুজে ঘেরা গ্রামগুলোই ছিল বর্ষবরণ উদযাপনের প্রাণ। খড় বিছানো জোছনা রাতে জারি-সারি বা বাউল-ভাটিয়ালীর সুর এখন কেবলই স্মৃতি। পহেলা বৈশাখে গ্রামগুলোতে সেই আগের আমেজ আর চোখে পড়ে না। কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকের মনে এখন উৎসবের চেয়ে দুশ্চিন্তাই বেশি।


গাইবান্ধা সদরের রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আবদুস সোবহান ও মন্টু মিঢা জানান, খরা, বন্যা আর এনজিওর ঋণের কিস্তির চাপে তাঁরা দিশেহারা। সার ও সেচের খরচ জোগাতে গিয়ে বর্ষবরণের আনন্দের কথা তাঁরা ভুলতেই বসেছেন।


উৎসবের জৌলুস কমেছে সদরের ঠাকুরবাড়ির মতো গ্রামগুলোতেও। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা জানান, আগে বৈশাখের মেলা উপলক্ষে আত্মীয়দের বাড়িতে মুড়ি-মুড়কি পাঠানো কিংবা চরক পূজার যে ধুম ছিল, তা এখন ম্লান হয়ে আসছে। কালের স্রোতে তাঁদের অনেক রীতিনীতিই বদলে যাচ্ছে।


বৈশাখজুড়ে একসময় সরগরম থাকত পালপাড়াগুলো। মেলা কমে যাওয়ায় মাটির তৈরি তৈজসপত্র ও খেলনার চাহিদাও নেই। ফলে ভেঙে পড়েছে মৃৎশিল্পীদের বৈশাখী অর্থনীতি। শিল্পীরা বলছেন, প্লাস্টিক সামগ্রীর ভিড়ে মাটির জিনিসের কদর হারিয়ে গেছে।


আরও পড়ুন: বাংলা নববর্ষে ঢাকার যে ৫ স্থানের সৌন্দর্য না দেখলে মিস করবেন


ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে দোকানগুলোতে হালখাতার যে রঙিন সাজ ছিল, তা এখন নেই বললেই চলে।


শহরের ব্যবসায়ী আজিজার রহমান বলেন, 'বাকির খাতায় আগের মতো বিশ্বাস নেই। এখন লেনদেন হয় প্রতি সপ্তাহে, তাই ঘটা করে হালখাতার প্রয়োজন পড়ে না। যারা করছে, তারাও মিষ্টির পরিবর্তে কমিউনিটি সেন্টারে পোলাও-বিরিয়ানি দিয়ে বড় অনুষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে।'


এদিকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বৈশাখী আয়োজন কমে যাওয়ায় স্থানীয় শিল্পীদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে পড়েছে।


উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গাইবান্ধা জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার বলেন, 'সময়ের পরিক্রমায় গ্রামীণ এই লোকজ উৎসবটি সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে সম্পৃক্ততা হারিয়ে ধীরে ধীরে আধুনিক নাগরিক উৎসবে রূপ নিচ্ছে।' বাঙালির শেকড়ের এই ঐতিহ্যগুলো হারিয়ে যাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন