মুজিবনগর দিবস: মুজিবনগরে নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতা

১০ ঘন্টা আগে

আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ দিনটিতে এবার সেই মুজিবনগরে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারিভাবে এবার সেখানে অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো নির্দেশনাও আসেনি।

মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক বিনিময় বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর এই দিনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। আয়োজন করা হয় কুচকাওয়াজ ও আলোচনা সভার। কিন্তু এ বছর এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্যান্ডেল তৈরির কাজ দেখা যায়নি।

১৯৮৭ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করা হয়। ১৯৯৬ সালে সেখানে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্মৃতি কমপ্লেক্সে একটি মানচিত্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরকে উপস্থাপন করা হয়। কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলির স্মারক ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুজিবনগরে স্মৃতি কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়। ভাঙচুর করা হয় ৩০০টি ছোট-বড় ভাস্কর্য। একসময় পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ ছিল ভাস্কর্যগুলো।

মেহেরপুরের সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘সরকারের উচিত ছিল মুজিবনগর দিবসটি পালন করা। এতে উদার রাজনৈতিক চর্চার পথ প্রশস্ত হতো।’

মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা না আসায় কোনো ধরনের সাজসজ্জা বা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ জন্য আম্রকানন ও স্মৃতিসৌধ এলাকা এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ।

দিবসটি ঘিরে যে প্রাণচাঞ্চল্য থাকে, এবার তার অনুপস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা গেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার উল হক প্রথম আলোকে বলেন, দেশে ভিন্নমত ও মতাদর্শ থাকবে, এটি বহুদলীয় রাজনৈতিক চর্চা। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একতরফা রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করেছিল। বর্তমান সরকার বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ অনুসরণ করে। এ কারণে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ করা উচিত। মুজিবনগর দিবস পালন করতে তো কোনো বাধা ছিল না।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে এখনো মুজিবনগর দিবস সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা আসেনি। আমরা নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।’

সম্পূর্ণ পড়ুন