বাংলাদেশি কর্মীদের কাছে মালয়েশিয়া যেন এক চিরচেনা নির্ভরযোগ্য গন্তব্য। কিন্তু সেই আস্থাকে পুঁজি করেই সিন্ডিকেট বাণিজ্যে মেতে ওঠে বিরাট অসাধু চক্র। এর সঙ্গে জড়িত ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সি। যারা সাধারণ শ্রমিকদের সর্বস্বান্ত করেছে নির্মমভাবে।
দুদক বলছে, কর্মী নেয়ার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া অন্য কোনো দেশে এজেন্সির বাধ্যবাধকতা না রাখলেও, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে তারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। তথ্য বলছে, একটি চক্রের পরিকল্পনায় বাংলাদেশে এই নিয়ম চালু হয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। ফলে, ৭৯ হাজার টাকা সরকারি খরচ নির্ধারিত থাকলেও, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা গুনতে হয়েছে। তারা বলছেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে এই চক্র সাধারণ শ্রমিকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এই সিন্ডিকেটের হোতা ক্যাথারসিসি ইন্টারন্যাশনালের রুহুল আমিন স্বপন, বায়রার সাবেক সভাপতি বেনজীর আহমেদ, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা থাকা ১০০টি এজেন্সির ২৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এবার এই ২৩২ জনের সম্পদের খোঁজে নোটিশ জারি করলো সংস্থাটি।
দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ বিবরণী দাখিলের প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করেছেন।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ‘বাংলাদেশের পতাকার আদলে তৈরি’ স্তম্ভ নিয়ে বিতর্ক
এদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর চলতি বছরই আবারও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। দেশটির সঙ্গে হয়েছে বৈঠকও। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কথা বললেও সংশয়মুক্ত হতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।
ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক জাসিয়া খাতুন বলেন, পুরোপুরি সিন্ডিকেট মুক্ত কিন্তু আমরা দেখছি না। আসলে সিন্ডিকেট মুক্ত হতে হবে, না হলে রিক্রুটমেন্ট স্বচ্ছ হবে না। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।
অন্যদিকে, রিক্রুটিং এজেন্সি সংশ্লিষ্টদের দাবি, হাতে গোনা কিছু এজেন্সির কারণেই বারবার বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বন্ধ হয়েছে মালয়েশিয়ার দুয়ার।
বায়রার সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, অন্য কোনো দেশে সিন্ডিকেট নেই। শুধু তারা চায় বাংলাদেশটা সিন্ডিকেট হোক। এতে তাদের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য, গোষ্ঠী স্বার্থের জন্যই তারা বাংলাদেশটা সিন্ডিকেট করতে চায়। এই সিন্ডিকেট করতে চাওয়ার কারণেই বাংলাদেশের শ্রম বাজার উন্মুক্ত হতে বিলম্ব হচ্ছে।
সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত গড়তে, যোগ্য এজেন্সিগুলোর কাজের ক্ষেত্র উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে মনে করেন বায়রার সাবেক এই নেতা।

৪ দিন আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·