মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা শেষে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

৩ সপ্তাহ আগে
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক এখন কূটনীতি বা বাণিজ্যের ফ্রেমের পাশাপাশি দুই দেশের সাধারণ মানুষের হৃদস্পন্দনে পরিণত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রসার এবং বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান ব্র্যান্ডগুলোর জনপ্রিয়তা এই ভ্রাতৃত্বকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে এই গভীর সম্পর্কের মাঝেও একরাশ হতাশা বিরাজ করছে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মনে।

২০২৩ সাল থেকে মালয়েশিয়া সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’ (সামাজিক ভ্রমণ পাস-গ্র্যাজুয়েট) চালু করেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে এক বছর দেশটিতে অবস্থান করে বৈধভাবে কাজ খোঁজার সুযোগ পান।

 

বিশ্বের ৩২টি দেশের নাগরিকরা এই সুবিধা পেলেও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বাংলাদেশকে। ফলে ডিগ্রি অর্জনের পর অর্জিত মেধা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কাজে লাগানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মেধাবী বাংলাদেশিরা।

 

মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্তির গুঞ্জন আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা আরও ঘনীভূত হয়েছে। অথচ প্রতিবেশী এশীয় দেশগুলো অনায়াসেই এই সুযোগ পাচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: ব্রাজিলে বাংলাদেশিদের জন্য দেড়শ স্কলারশিপের ব্যবস্থা, পড়ছেন মাত্র একজন!

 

ইউনিভার্সিটি টেকনোলোজি মালয়েশিয়ার কম্পিউটার সায়েন্স ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতকে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নাহিদ সময় সংবাদকে বলেন, 

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক আজ ব্যবসা ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী, কূটনীতিতে সহযোগিতাপূর্ণ। সেই সম্পর্কের নৈতিক ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা ও মানবিক ন্যায়বিচার। একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা শুধু সমান সুযোগ চাই। গ্র্যাজুয়েট পাস কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি সম্মান, আত্মবিশ্বাস এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

 

এই পাসের জন্য অন্তত স্নাতক ডিগ্রি এবং একজন মালয়েশিয়ান স্পন্সর প্রয়োজন হয়। সুবিধাটি পেলে শিক্ষার্থীরা এক বছর সপরিবারে থেকে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ পান।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসী ব্যবসায়ীরা যেমন রেমিট্যান্স দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখছেন, তেমনি শিক্ষার্থীরাও বিদেশের মাটিতে দেশের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’। জাতীয়তার ভিত্তিতে এই বৈষম্য দুই দেশের মধ্যকার নৈতিক সম্পর্কের পরিপন্থি।

 

বাংলাদেশ দূতাবাস কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মেধাবীদের এই বঞ্চনা দূর হবে না বলেই মনে করছেন অনেকে। শিক্ষার্থীদের দাবি, অবিলম্বে এই সুবিধা নিশ্চিত করে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বের মর্যাদা রক্ষা করা হোক।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন