মানিকগঞ্জের মাঠগুলো এখন হলুদের গালিচা, চোখ জুড়ানো সরিষায় বুক বাঁধছে চাষিরা

৪ সপ্তাহ আগে
মানিকগঞ্জের মাঠগুলো এখন হলুদ চাদরে ঘেরা। সরিষার ফুল ফুটে জমিগুলোতে মৌমাছির পরাগায়ন কার্যক্রম চলছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ভালো ফসল পাওয়ার আশা জাগছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, সরিষার পাশাপাশি মধু চাষেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

সরজমিনে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ হলুদ চাদরে ঘেরা। হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। হিমেল বাতাসে চারপাশ মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর। প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে।

 

সরিষা চাষকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্ত থেকে মৌয়ালরা এসেছেন মানিকগঞ্জে। বাক্সগুলো সাজানো হয়েছে মাঠের পর মাঠে। গাছে গাছে ফুল দেখে এবং মৌমাছির পরাগায়নে ভালো ফসলের আশা কৃষকের। আর মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন দূর-দূরান্তের মৌয়ালরা।

 

নিরাত আহমেদ নামে এক কৃষক বলেন, ‘অনেক পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েছি। অনেক ফুল এসেছে। মৌমাছির বক্স বসানো হয়েছে, এতে পরাগায়ন হচ্ছে। আশা করছি ভালো ফসল পাব।’

 

আরও পড়ুন: ‘বোনাস ফসলে’ লাভের মুখ, আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

 

নাজির আহমেদ জানান, ‘ফুলে ফুলে ভরে গেছে পুরো জমি। যেদিকে তাকাই, শুধু হলুদ সমারোহ। দেখে ভালো লাগছে। আশা করছি মধুও সঠিকভাবে পাওয়া যাবে।’

 

শিমুল নামে এক কৃষানী বলেন, ‘এটা আমার বাংলার ঐতিহ্য। গাছে গাছে ফুল ফুটছে। সরিষার ফুলে সব কিছুর মাঝে হলুদ রঙ যেন এক অন্য জগত তৈরি করছে। গ্রামের মেয়ে আমি। কৃষিকাজ আমাদের জীবন। সরিষা চাষ ও মৌ সংগ্রহ পুরো শীতকাল যেন আমাদের আবেগের অংশ হয়ে গেছে। ফসলের সঙ্গে মিশে আছে আনন্দ, পরিশ্রম আর স্বপ্ন।’

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাজাহান সিরাজ বলেন, ‘দেশের অন্যতম সরিষা উৎপাদনের জেলা মানিকগঞ্জ। চলতি বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার মধু এবং ৭ কোটি ৬১ হাজার টাকার সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

 

জেলায় ৬৮ হাজার ৯৪৭ হেক্টর জমিতে চাষের পরিকল্পনা ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে চলতি বছর চাষ সম্পূর্ণ হয়েছে। কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে মধু চাষেও উৎসাহিত করা হচ্ছে। এভাবে যদি আরও বেশি কৃষক মধু চাষে এগিয়ে আসেন, তবে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন